তবে ইউরেনিয়ামের মজুত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ইস্যুতে দুই দেশ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ইসনা এই খবর নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনায় কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে শুল্ক আদায়ের চেষ্টা করে, তবে কোনো সমাধান সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি প্রায় বন্ধ রয়েছে। এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তা উদ্ধার করবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো নিয়ে নেব এবং সম্ভবত ধ্বংস করে ফেলব; তাদের কাছে এগুলো রাখা যাবে না।’
এর বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো যাবে না। ট্রাম্পের ওপর নিজ দেশেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, কারণ জ্বালানির দাম বাড়ায় তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে।
ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হিমায়িত সম্পদ ছেড়ে দেয়াসহ বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে, যা ট্রাম্প আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে জুলাই ও আগস্টে তেলের বাজার চরম সংকটে পড়বে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা হলেও, ইরান এখনো তাদের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





