ভ্যান্সের চিঠিকে ইতিবাচক বললো ইরান; এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নয়

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো আলোচনার প্রস্তাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে তিনি জানিয়েছেন, এখনই মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের শর্ত নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভ্যান্সের চিঠিটি পর্যালোচনা করেছে ইরান। তার ভাষায়, ‘বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুলতে মার্কিন পক্ষের চেষ্টা ইতিবাচক পদক্ষেপ।’ তবে চিঠিটির উদ্দেশ্য বিরোধ উসকে দেয়া হলে তা ওয়াশিংটনের আরেকটি ভুল হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রচারিত খবরকে গণমাধ্যমের জল্পনা বলে উল্লেখ করেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠকের প্রয়োজন দেখছি না। আমাদের শর্ত স্পষ্ট, আর মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ ইরানের শর্ত পূরণের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

আরাঘচি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল কাতারে গেছে। তার একজন সহযোগী সেখানে অবস্থান করছেন। মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন; আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায়ে সেগুলো পর্যালোচনা করছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, কাতার প্রথমে সময়সীমা পাঁচ দিনে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। বর্তমান পর্যায়ে তা দুই দিনে নামিয়ে আনার একটি প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। তবে প্রণালিটি খোলার চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি জানাননি।

ইরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ স্মারকলিপির পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি কমানো, ইরানের তেল রপ্তানিসংক্রান্ত ছাড় পুনর্বহাল এবং কাতারে থাকা অর্থসহ জব্দ করা সব অর্থ ছাড় করা। হরমুজ প্রণালিতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করা নৌপথগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া এবং অন্য পথগুলো বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। আরাঘচি বলেন, ইরানের শর্ত অনুযায়ী প্রণালিটি খুললে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।

একই সাক্ষাৎকারে ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অস্ত্রের উন্নয়ন, দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং নতুন অস্ত্র পরীক্ষার কথাও জানান তিনি। মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব স্বীকার করলেও ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে মন্তব্য করেন আরাঘচি।

—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম