প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল (প্রায় ১ হাজার ৯৩০ কিলোমিটার)। এই দূরত্বের কারণে সৌদি আরব ও ইসরাইলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা সম্ভব হবে।
২০২৫ সালে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ দুটি সন্দেহভাজন চালান আটক করেছিল। সেখানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে ছিল কাস্টমাইজড ধাতব অংশ, মোটরের যন্ত্রাংশ, ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো (এয়ারফ্রেম), ওড়ার সময় ভারসাম্য রক্ষার বিশেষ ফিন এবং খাইবার শেকান সিরিজের কঠিন জ্বালানির রকেট মোটরের বিভিন্ন উপাদান। এ ছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সময় সৃষ্ট তীব্র তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তাপপ্রতিরোধী বিশেষ উপাদান (অ্যাবলেটিভ মেটেরিয়াল), বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতিও জব্দ করা হয়।
কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনৎস ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, 'এ ধরনের আমদানির অর্থ হলো তারা হয়তো এরই মধ্যে এগুলো তৈরি করছে অথবা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।' তবে হুথিদের অস্ত্রের কারখানাগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ছদ্মবেশে থাকায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কতটা এগিয়েছে তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
চীন দাবি করেছে যে তারা হুথিদের ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি মেনে চলছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জব্দ করা কিছু সামগ্রী বেসামরিক কাজে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও বেশ কিছু উপাদান কেবল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্যই বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে।
ইরানের তৈরি খাইবার শেকান মূলত একটি সস্তা, সহজে স্থানান্তরযোগ্য এবং অত্যন্ত নির্ভুল মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা অন্তত ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে তেহরান এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুরোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মতো উৎক্ষেপণের ঠিক আগে দীর্ঘ সময় নিয়ে তরল জ্বালানি ভরার প্রয়োজন এতে হয় না। কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের কারণে এগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে এবং দ্রুত ট্রাকে তুলে উৎক্ষেপণস্থলে নিয়ে যাওয়া যায়। ফলে মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের নজরদারি এড়িয়ে খুব সহজেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব।
জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইয়েমেনের যুদ্ধও নতুন মাত্রা পায়। এই সংঘাত নিরসনে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

 weapon at Eglin Air Force Base, Florida-320x167.webp)



