সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জিএফএস প্রাইড নামের একটি ২,৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ মঙ্গলবার প্রণালি অতিক্রম করার সময় আক্রমণের শিকার হয়। এতে আগুন ধরে যাওয়ার পর পরবর্তীতে জাহাজটি ডুবে যায়। অবশ্য এর ২১ জন নাবিককেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) তথ্যে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলার শিকার হওয়া অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী কেপ দাউ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার সম্প্রতি হরমুজের কাছেই ডুবে গেছে। ওই হামলায় এক নাবিক নিহত হয়েছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ অঞ্চলে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ হলো এই জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাউ। এর আগে গত মার্চে সাফিন প্রেসটিজ নামের আরেকটি কনটেইনার জাহাজ প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে যায় এবং এপ্রিলে এমএসসি ফ্রান্সেসকা নামের একটি নৌযান আটক করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।
ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তেহরান এখন সাধারণ পণ্যবাহী বহরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘বাণিজ্যিক নৌযানে এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ উসকানিমূলক, অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্ক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং এখন তেল ট্যাংকার ছাড়িয়ে সাধারণ কনটেইনার ও বাল্ক ক্যারিয়ারগুলোর ওপরও প্রাণঘাতী আঘাত আসছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে যেলেও, বর্তমানে কৌশলগত এই জলপথে সাধারণ মালবাহী জাহাজ চলাচলও স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববাজারে চাপ বাড়াতে সমুদ্রপথের এই সার্বিক বাণিজ্যিক সচলতাকে স্তব্ধ করে দেয়ার রণকৌশল নিয়েছে তেহরান।





