সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে তৃণমূল চেয়ারপারসন বলেন, ‘যারা ইডি, সিবিআই বা বিজেপির নানা রকম চাপের মুখে রয়েছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, ২১ জুলাইয়ের আগেই চলে যান। লোটা-কম্বল নিয়ে চলে যান।’
যেদিন তিনি এই মন্তব্য করেন, সেদিনই রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিক পদত্যাগ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগের দিন বুধবার মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মদন মিত্র দল বদলে ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেন।
রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা মমতা ব্যানার্জি বলেন, যারা তার সঙ্গে থেকে যাবেন, তারাই হবেন তার ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’। তিনি বলেন, ‘তারাই ভবিষ্যৎ গড়বেন। ১৯৯৭ সালে (যখন কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠন করেছিলেন) যদি আমরা নতুনভাবে শুরু করতে পারি, তাহলে ২০২৬ সালেও নিশ্চয়ই আবার তা পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি নেতারা বলছেন, তারা আমাদের নাম ও প্রতীক মুছে দেবেন। কিন্তু বহু রাজনৈতিক দলই সময়ের সঙ্গে নাম ও প্রতীক বদলেছে, কিন্তু তাদের পরিচয় অটুট থেকেছে। আপনারা ক্ষমতার জোরে নাম বদলে দিতে পারেন, কিন্তু আদর্শ বা দিশা মুছে দিতে পারবেন না।’
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশে যোগ দিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও পুলিশ মানুষকে এই অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখতে চাপ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি পুলিশ মানুষকে না আসার কথা বলছে, বাধা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ থাকার আবেদন জানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন:
মমতা অভিযোগ করেন, বিদ্রোহীরা সবকিছু করছেন ‘দিল্লির মদদে’। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, জীবন দীর্ঘ। দিল্লিতে পরিস্থিতি নড়বড়ে হতে শুরু করলে এখানকার পরিস্থিতিও বদলে যাবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, কতজন সংসদ সদস্যকে কেনা হলো, তা কোনো ব্যাপার নয়।
জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তৃণমূল চেয়ারপারসন। কেন্দ্রীয় সরকার কেন সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনা করছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। মমতা তাকে ফোন করে কথা বলেছেন।
মমতা বলেন, ‘সোনমের দীর্ঘ অনশনের পরও কোনো সরকারি কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি। আমি যখন ২৬ দিন অনশন করেছিলাম, তখনো সরকারের কেউ কথা বলতে আসেননি। ২০ দিন পর গভর্নর গোপাল কৃষ্ণ গান্ধী, মহাশ্বেতা দেবী, কবীর সুমন, বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং এবং অন্য অনেক নেতা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।’
একইদিন খবর পাওয়া যায়, তৃণমূলের আরেক নেতা ও রাজারহাট-নিউটাউনের সাবেক বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জিও মমতা ব্যানার্জির শিবির ছেড়ে ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনেরও বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। মমতা এই গোষ্ঠীকে বিজেপির ‘সেটিং পার্টি’ বলে অভিহিত করেছেন।




