কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় ‘বিপজ্জনক’ বাতাস; নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা

কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে নিউ ইয়র্ক সিটি
কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে নিউ ইয়র্ক সিটি | ছবি: বিবিসি
0

কানাডাজুড়ে ৮০০ এর বেশি দাবানল সক্রিয় থাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে। ডেট্রয়েট, টরন্টো, নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ডের আকাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এতে বিশাল এলাকাজুড়ে ‘বিপজ্জনক’ মানের বায়ু সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিসিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাবের কথা জানিয়ে কর্মকর্তারা মানুষকে ঘরে থাকতে বলেছেন। বাতিল করা হয়েছে বহু বাইরের অনুষ্ঠান। কানাডার উত্তর অন্টারিওতে দাবানলের কারণে স্থানীয় ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায়ের অনেককে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। নামায়গুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশনের চিফ হেলেন পাভোলা জানিয়েছেন, তার সম্প্রদায় ‘পুড়ে ছাই হয়ে গেছে’।

কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডায় ৮৫৮টি দাবানল সক্রিয়। বেশির ভাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মার্কিন এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, শিকাগো, মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ এবং ওহাইওর টোলেডোসহ বিভিন্ন শহরে বিপজ্জনক বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল বলেন, ‘আমরা এখন একটি অত্যন্ত গুরুতর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’ তিনি জানান, ঘন ধোঁয়া রাজ্যের বড় অংশকে ‘ঢেকে ফেলেছে’। নিউ ইয়র্ক তাপ জরুরি অবস্থার পরিকল্পনার মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং বায়ুমান জরুরি প্রটোকল চালু করেছে। শহরজুড়ে খোলা হয়েছে শত শত কুলিং সেন্টার, সরবরাহ করা হচ্ছে কেএন৯৫ মাস্ক।

সুইস বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ুমান ডেট্রয়েটে। এরপরই রয়েছে মিনিয়াপোলিস, শিকাগো ও টরন্টো।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওর অধ্যাপক লরা চ্যাসমার বলেন, দাবানল কানাডার বোরিয়াল বনভূমির প্রাকৃতিক জীবনচক্রের অংশ হলেও ২০১৫ সাল থেকে এর ঘটনা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি চরম জলবায়ু উষ্ণায়ন ও ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় শুষ্কতার সঙ্গে সম্পর্কিত।’ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জানিয়েছেন, দাবানল দমনে ১৫০টিরও বেশি ফায়ার ক্রু মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘যত ব্যয়ই হোক না কেন, আমরা তা করবো।’

এএম