অবৈধ পথে কনে খুঁজতে বাংলাদেশে এলে জেল-জরিমানা: চীন দূতাবাস

ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাকে বর ও কনে
ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাকে বর ও কনে | ছবি: সংগৃহীত
0

বাংলাদেশি মেয়েদের বিয়ে করার জন্য অবৈধ কোনো দালাল বা সংস্থার সাহায্য না নিতে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে চীন। গতকাল (মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই) ঢাকায় চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেয়া এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এভাবে বিয়ে করলে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী, মানব পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এই শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া পাচারে উসকানি দেয়ার মতো অপরাধেও তিন থেকে সাত বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, সম্প্রতি চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তসীমান্ত বিয়ের নামে প্রতারণার ঘটনা অনেক বেড়েছে। বিয়ে হতে হবে পারস্পরিক সম্মতি ও ভালোবাসার ভিত্তিতে। কনে কেনাবেচার এই প্রক্রিয়া প্রায়ই আর্থিক চাঁদাবাজি ও শারীরিক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চীনে আন্তর্জাতিক ম্যাচমেকিং বা বিয়ের দালালির ব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ। দেশটির ২০২০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বিয়ের বয়সের পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ বেশি। লিঙ্গবৈষম্যের এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি কালোবাজারি চক্র গড়ে উঠেছে। এসব চক্র বিদেশ থেকে মেয়েদের অপহরণ বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চীনে পাচার করছে। অন্যদিকে অনেক চীনা পুরুষও বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

গত কয়েক বছরে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে চীনা দূতাবাসগুলো। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানব পাচার ও বিয়ের নামে প্রতারণার দায়ে চীনে ১ হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছর মাদাগাস্কারে চাকরি দেয়ার নামে তরুণীদের চীনে পাচারের অভিযোগে আটজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশেও এমন একটি বড় চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির পুলিশ।

এএম