ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিনের এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট বর্তমানে কেবল মার্কিন কৌশলগত স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধ শুরু করলে এই ফাটল আরও প্রকাশ্য হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্ররা এই যুদ্ধে যোগ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আঙ্কারায় তিনি বলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর খুব অসন্তুষ্ট।’
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা তাদের দোরগোড়ায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্কিত। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।’ তার এই বক্তব্য ইউরোপের কৌশলগত অসহায়ত্বকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন:
টানাপোড়েন সত্ত্বেও আঙ্কারায় ন্যাটো জোট ২০২৬ সালের জন্য ইউক্রেনকে ৭ হাজার কোটি ইউরো সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার ঘোষণাও এসেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে জোটের সদস্য দেশগুলো তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে অস্ত্র নির্মাতা ও প্রতিরক্ষা লবির ক্রমবর্ধমান প্রভাব। প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর যৌক্তিকতা হিসেবে রাশিয়া ও ইরানের হুমকিকে বারবার সামনে আনা হচ্ছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত হতে পারে।
স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্কের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান তুরস্ককে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছেন যেখানে তারা একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্য, বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক এবং লিবিয়া ও সুদানের মতো দ্বন্দ্বে সক্রিয় পক্ষ। লিবিয়ায় তুর্কি ড্রোন ডিপ্লোম্যাসি এখন ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। আঙ্কারা সম্মেলন থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিশ্ব এখন এক স্থায়ী যুদ্ধ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ত্র ব্যবসার প্রসার ঘটছে।




