পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা কিম জং উনের

পরিদর্শনে করছেন কিম জং উন
পরিদর্শনে করছেন কিম জং উন | ছবি: সংগৃহীত
0

পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবেই বিশ্বের বুকে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তার মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা ও জটিলতা মোকাবিলায় এর বিকল্প নেই। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন কিম জং উন। শুধু তাই নয়, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জি ৭-এর আহ্বানকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচি পরিচালনা করার অধিকার তাদের রয়েছে। এরই জেরে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে উত্তর কোরিয়া।

২০১১ সালে দেশটির নেতা কিম জং উন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেশ কয়েকবার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব পরমাণু বোমা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা বোমার চেয়ে ১৬ গুণ বেশি শক্তিশালী।

এমন অবস্থায় এবার কিম জং উন ঘোষণা দিয়েছেন, একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অবস্থানকে তুলে ধরা হবে। বিশ্বের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এর বিকল্প নেই। আধিপত্যবাদী দেশগুলো ভিলেনের মতো আচরণ করছে। যা বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতকে আরও সহিংস করে তুলছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন কিম জং উন।

আরও পড়ুন:

ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কিম অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্মিলিতভাবে তাদের পারমাণবিক শক্তিকে ক্রমাগত উন্নত করছে। যা শঙ্কায় ফেলেছে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তাকে। এদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করা।

এদিকে, এক বিবৃতিতে কিমের বোন কিম ইয়ো জং হুশিয়ারি জানিয়েছেন, পরমাণু ইস্যু নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনায় যাবে না উত্তর কোরিয়া। এমনকি কোনো ধরনের হুমকিও সহ্য করা হবে না। দেশটির পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জি৭- সদস্যদের আহ্বানকে উত্তর কোরিয়ার সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেনের হাতে বন্দী হয়েছে উত্তর কোরিয়ার বেশ কয়েকজন সেনা। এসব যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি এবং স্বেচ্ছায় তারা যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে চায়, তাহলে তাদের গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছে সিউল।

এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আশ্বাস দিয়েছে পিয়ংইয়ং। মস্কোর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কিম জন উন বলেন, উত্তর কোরিয়া সবসময় রাশিয়ার পাশে আছে।

ইএ