দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক, নিখুঁত গোল আর সাথে মেসির পেনাল্টি সেভ! সবকিছু মিলিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটানোর সুবাস পাচ্ছিল মিশরীয়রা, তবে ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটের ঝড়ে মিশরকে কাঁদিয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
তবে রেফারির সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ম্যাচ শেষে কান্না চেপে ক্ষোভ উগরে দেন মিশরীয় স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো।
মোস্তফা জিকোর বলেন, ‘আমাদের চোখের এই পানি দুঃখের এবং অবিচারের। আমরা আজ মাঠে চরম অবিচারের শিকার হয়েছি এবং পুরো বিশ্ব সেটা দেখেছে। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও সবকিছুই আমাদের বিপক্ষে যেতে শুরু করে। আমি সরাসরি বলছি রেফারি মোটেও ন্যায়সঙ্গত ছিলেন না।’
খেলোয়াড়দের এই ক্ষোভের আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। ফিফার ফেয়ার প্লে আর রেস্পেক্ট স্লোগানকে স্রেফ প্রহসন আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান বলেন, ‘আজ মাঠে কোনো 'রেস্পেক্ট' ছিল না, কোনো 'ফেয়ার প্লে' ছিল না। আমাদের পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, অদ্ভুত উপায়ে আমাদের গোল বাতিল করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার এই জয় সম্পূর্ণ অন্যায্য। আমি কথা দিচ্ছি, দেশে ফিরে এই বিশ্বকাপের একটা ম্যাচও আমি আর দেখব না।’
মিশরের এই তীব্র প্রতিবাদের বিপরীতে, ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ কতটা কঠিন ছিল এবং কীভাবে তারা ঘুরে দাড়ালো, তা উঠে এলো আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজের কণ্ঠে
লাউতারো মার্টিনেজ বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু এই দলটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই থামায়নি। বিশেষ করে দ্বিতীয় গোলের পর পুরো দল অবিশ্বাস্য মানুষিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। লিওনেল মেসি আমাদের নেতা। ও এই জয়ের শতভাগ যোগ্য ছিল’
ম্যাচের ফল হয়তো আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে, রেফারিং নিয়ে বিতর্কও চলবে দীর্ঘদিন। তবে বিশ্বমঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বুক কাঁপিয়ে দিয়ে, মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ফারাওরা।





