ম্যাচ শেষে মিশরের একাধিক খেলোয়াড় রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেও, সম্পূর্ণ শান্ত ও সংযত আচরণ দেখিয়েছেন দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সরাসরি রেফারিকে আক্রমণ না করলেও, তার কথায় মিশে ছিল ‘এক বুক হতাশা’।
ম্যাচ শেষে রেফারি ফ্রাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মোহাম্মদ সালাহ বলেন, ‘রেফারিকে নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। মাঠে কী ঘটেছে তা সবাই নিজের চোখে দেখেছে। এটা ম্যাচের ভাগ্য ছিল, আর হয়তো এমন একটি ফলাফলই আগে থেকে নির্ধারিত ছিল। আমরা প্রথমার্ধে দারুণ খেলেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময়ও আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। সামান্য কিছু ভুলের জন্য আমাদের বড় মাসুল দিতে হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
ম্যাচের শেষ মুহূর্তের সেই চরম বিতর্কিত ও নাটকীয় মুহূর্তগুলো নিয়ে সালাহ বলেন, ‘আমাদের একটি নিশ্চিত গোল বাতিল করা হয়েছে, আবার পরিষ্কার ফাউলের পরও আমরা পেনাল্টি পাইনি। আর ঠিক তার পরপরই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আর্জেন্টিনা গোল পেয়ে গেল। এর চেয়ে বেশি আমার আর কিছু বলার নেই।’
উল্লেখ্য, ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর একটি দুর্দান্ত গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করেন রেফারি। দাবি করা হয়, বিল্ডআপের সময় মারওয়ান আত্তিয়া ফাউল করেছিলেন। ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় একদম ইনজুরি টাইমে। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের ভেতর সালাহ নিজেই ফাউলের শিকার হন, কিন্তু রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই ছিটকে যেতে হলেও চলতি বিশ্বকাপে মিশরের এই লড়াকু যাত্রাকে খাটো করে দেখছেন না সালাহ। সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোচ এই পুরো পথচলার জন্য দলের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন আরও সামনে এগিয়ে যাই, তবে ফুটবল এমনই। এই টুর্নামেন্টে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটাকে ভিত্তি করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব। আশা করি আমাদের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে।’
—ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘লাউ দং’-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে





