সংঘর্ষস্থল হাইস জেলার জাবাল দুবাস এলাকায় সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, তীব্র লড়াইয়ে ১৪ সেনা নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই গভীর রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষে হুথিরা সাময়িকভাবে সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখলে নেয়। পরে পাল্টা হামলা চালিয়ে পরদিন ভোরে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়।
গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ছিল হুথিদের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।’ তিনি জানান, প্রথমে স্নাইপার হামলা চালিয়ে বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটানো হয়। এরপর ড্রোন ও মর্টারের গোলাবর্ষণ শুরু করে হুথিরা।
এর আগে আরেক সামরিক কর্মকর্তাও জানান, হাইস জেলায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ১৪ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি বাহিনী শেষ পর্যন্ত হুথিদের হামলা প্রতিহত করেছে। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে হুথিদের পক্ষেও হতাহত হয়েছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির কতজন নিহত হয়েছেন, সে সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি।
২০১৫ সাল থেকে হুথিরা ইয়েমেনের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। দীর্ঘ এ সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, যার মধ্যে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাও রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই স্থবির ছিল। তবে ৩ জুলাই হুথিরা ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক সরকারের প্রধান সমর্থক সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করে, ইরানের একটি বিমান অবতরণে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব।





