রপ্তানি লক্ষ্যে পোশাকশিল্পেই ভরসা; বিদেশি বিনিয়োগে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর

চট্টগ্রাম বন্দর ও পোশাক তৈরি করা হচ্ছে
চট্টগ্রাম বন্দর ও পোশাক তৈরি করা হচ্ছে | ছবি : সংগৃহীত
0

চলতি অর্থবছরে ৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য নির্ধারণ, যার বড় অংশই আসবে পোশাক থেকে। সচিবালয় এ তথ্য জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আশা করেন, আগের অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্য পূরণে বেশ ঘাটতি থাকলেও, এবার অর্জিত হবে লক্ষ্যমাত্রা। বলেন, শিগগিরই দক্ষিণ কোরিয়া ও আমিরাতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য সই করবে বাংলাদেশ। এদিকে, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে চীনের সঙ্গে করিডর নিয়ে স্বার্থ যাচাই করছে ঢাকা।

বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে দেশের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে অর্জিত হয়েছে ৪৭ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানির অন্যতম পণ্য গার্মেন্টস শিল্পের শীর্ষস্থান ফিরে পেতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে সচিবালয়ে বিশেষ সভা। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই সভা শেষে জানান, বিগত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও ব্যবসা বান্ধব পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এবার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসবে।

তিনি বলেন, ‘আগের বছরের যে এক্সপোর্ট ছিলো, এই বছরেও এক্সপোর্টটা কমবেশি সেইরকমই। আশা করি এ বছরে, আগামী অর্থবছরে সেটা কিছুটা হলেও আমরা এ বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ইনশাল্লাহ সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের এফটিএ সম্পন্ন হবে, আলোচনা সম্পন্ন হবে। কিছুদিনের মধ্যেই ইউএইয়ের সঙ্গে এফটিএ সম্পন্ন হবে। আমাদের সবথেকে বড় রপ্তানি গন্তব্য অ্যাজ এ ইকোনমিক জোন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও আমরা মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি।’

এদিকে, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছাতে আগেই আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তবে, তা না হলে দেশে যাতে অর্থনৈতিক কোনো সংকট না আসে, সে ব্যাপারে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানতে নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আমাদের কী কী সমস্যাগুলো আছে—আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফারমেন্ট, আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেট, আমাদের ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট, এখানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস, ইনভেস্টমেন্ট করতে হলে আমাদের ফরেন ইনভেস্টরদের যে ধরনের সমস্যা এখানে ফেস করতে হয়; সেগুলোর সমাধানে আমরা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি। আমাদের বিভিন্ন ইকোনমিক জোন করা হয়েছে, সেখানে যখন ইনভেস্টমেন্ট করবে—কী কী ধরনের ফ্যাসিলিটেশন তাদের প্রয়োজন, কী কী ধরনের প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে যাতে তারা সহজে ইনভেস্ট করতে পারে বিদেশিরা; সেই সকল ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

দুপুরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক' নিয়ে এক সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বলেন, চীন-বাংলাদেশ-মায়ানমার করিডর নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘চায়নার সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্কের নতুন অগ্রযাত্রা, সেটা বিনিয়োগের মধ্যে আছে। সেই বিনিয়োগ যেমন হচ্ছে উৎপাদনে, সেই বিনিয়োগ হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নে, সেই বিনিয়োগ হচ্ছে যে আমাদের দুই দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা এবং অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ।’

অর্থনৈতিক কাঠামো পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগই এই সরকারের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এফএস