ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের দুই সদস্যের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মুজতবা খামেনি কর্মকর্তাদের কাছে বাবার জানাজায় অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ইসরাইল যেকোনো সময় তাকে হত্যার চেষ্টা চালাতে পারে বা তার গোপন আশ্রয়স্থলের সন্ধান পেতে পারে এমন আশঙ্কায় তার অনুরোধ গৃহীত হয়নি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কয়েক দিনব্যাপী চলা এই শেষকৃত্যের কোনো অংশে মুজতবা খামেনি উপস্থিত হবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই বাবার দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় মুজতবা খামেনির স্ত্রী, কিশোর ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন। কিন্তু বুধবার অনুষ্ঠিত স্ত্রীর স্মরণসভায়ও উপস্থিত ছিলেন না তিনি। ওই হামলায় মুজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হন। জনসমক্ষে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তিনি আদৌ ইরানের শাসনভার পরিচালনা করতে পারছেন কি না।
আরও পড়ুন:
আল জাজিরার কাছে দেয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মুজতবা খামেনির এই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তের কারণ বোঝা যায়। মাসগ্রেভ বলেন, ‘ইরান আশঙ্কা করছে, ইসরাইল হয়তো জানাজাস্থলে দ্বিতীয় দফায় ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক বা শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। অতীতেও ইসরাইল বিভিন্ন জানাজার মিছিলকে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার জন্য ব্যবহার করেছে।’
তবে তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, শেষ পর্যন্ত দেশের নেতাকে জনসমক্ষে আসতেই হবে। কারণ, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মুজতবা খামেনিকে সরাসরি দেখা যায়নি। মাসগ্রেভ বলেন, ‘আমি মনে করি, ইরানকে শেষমেশ এমন কোনো উপায় বের করতে হবে, যাতে বোঝা যায় তিনি কেবল একজন আড়ালে থাকা সর্বোচ্চ নেতা নন; বরং বাস্তবে দায়িত্বে রয়েছেন। তেহরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ যৌক্তিক হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের এই কাজটি করতেই হবে।’




