গোলাপি রঙের এই পরিযায়ী পাখি আলবেনিয়ার নৈশকালীন বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশটির উপকূলীয় শহর ভ্লোরার কাছে সংরক্ষিত নর্তা উপত্যকায় এই পাখিরা বিচরণ করে। অভিযোগ উঠেছে, ওই সংরক্ষিত এলাকার কাছে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট তৈরি করতে চায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী। সরকার এরইমধ্যে তাদের ‘বিশেষ বিনিয়োগকারী’ মর্যাদা দিয়েছে। যদিও রামা সরকার বলছে, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এখনো শুরু হয়নি, তবে প্রকল্প এলাকায় এরইমধ্যে বুলডোজার ও বেড়া দেখা গেছে।
পরিবেশ রক্ষার এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এক মাস আগে, যখন এক বিক্ষোভকারীকে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই দুর্নীতির অভিযোগ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রাজপথে আছড়ে পড়ে। হেলেনা নামের এক তরুণী বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি স্কুল, হাসপাতাল আর অবকাঠামোর জন্য। আমি নিজ দেশে থাকতে চাই, দেশ ছাড়তে চাই না।’
এডি রামা ও তার সোশ্যালিস্ট পার্টি গত ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়ে আলবেনিয়ার পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকার কর্মী ফাতোস লুবোঞ্জা অভিযোগ করেন, সরকার ‘অলিগার্ক, সংঘবদ্ধ অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের’ মদত দিচ্ছে এবং এই ভবন নির্মাণের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হচ্ছে।
তবে নিজের কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এই বিক্ষোভকে সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক মিত্র ও টিরানার মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত চললেও রামা দাবি করেন, তিনি একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা চান যা কোনো চাপ বা প্রলোভনে কাজ করবে না।
এদিকে রামার হাতেই রাজনীতিতে আসা দেশটির সর্বকনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য ২৫ বছর বয়সী মাজানা কোচেকু সম্প্রতি সোশ্যালিস্ট পার্টি ত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রামা আর মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারছেন না। চকচকে সম্মুখভাগের আড়ালে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন।’ আপাতত বিক্ষোভকারীরা মাঠ ছাড়ছে না, আর রামাও পদত্যাগে রাজি নন। ফলে টিরানার রাজপথে ফ্ল্যামিঙ্গোর প্রতীক নিয়ে এই প্রতিবাদ দীর্ঘায়িত হওয়ারই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।





