নগর পুড়লে দেবালয়ও বাদ পড়ে না। তেমনি যুদ্ধ হলে সামরিক স্থাপনা ও মানুষেরই মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবেশ। হুমকিতে মুখে পড়ে প্রাণ-প্রকৃতি।
দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ব্যাপক ক্ষতির মুখে ইউক্রেন, সেইসাথে হুমকিতে জীব-বৈচিত্র্য। সম্প্রতি যার প্রমাণ মিলেছে খোদ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। শহরটির আনাচে কানাচে খড়কুটোর পরিবর্তে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল দিয়ে বাসা বেধেছে পাখিরা।
মূলত রাশিয়ার ড্রোন হামলা ঠেকাতে এই অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার করে ইউক্রেনের সেনারা। দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাড়ির ছাদ, গাছপালা ও মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এই ধরনের তার। যা সূর্যের আলোয় বিশাল মাকড়সার জালের আকৃতি ধারণ করে।
ঘাস, লতা-পাতার পরিবর্তে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল দিয়ে তৈরি এই বাসা মজবুত হলেও তা পাখিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা নেদারল্যান্ডসের এই জীববিজ্ঞানীর।
পাখিদের ওপর এই ফাইবার অপটিক কেবলের প্রভাব কী তার উত্তর দেওয়াটা একটু কঠিন। তবে অবশ্যই এই কৃত্রিম উপাদান পাখিদের ক্ষতি করবে। তারা এতে জড়িয়ে যেতে পারে এবং অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে নানাভাবে নিজেদের ক্ষতি করতে পারে।
পাখিরা কিভাবে এই লম্বা তারগুলো সংগ্রহ করে ছোট ছোট বাসা তৈরি করেছে তা নিয়ে গবেষকরাও চিন্তিত। ইতিহাসের অংশ হিসেবে তাই একটি পাখির বাসা ইউক্রেনের যুদ্ধ জাদুঘর এবং গবেষণার জন্য আরও একটি নেদারল্যান্ডেসে পাঠানো হবে বলে জানান ইউক্রেনের এই গবেষক।
পাখির বাসাটিতে প্রধানত শুকনো ঘাস এবং ফাইবার-অপটিক কেবল রয়েছে। আরও অনেক কিছুই এখানে দেখা যাচ্ছে। আর এগুলো বেশ আঁটসাঁটভাবে প্যাঁচানো। ফাইবার অপটিকের টুকরোসহ পাখির বাসার মতো এই বস্তুগুলো যুদ্ধের স্বরূপের পরিবর্তনকে তুলে ধরে। ২০২২ সালে এমন বাসা দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
বিশ্লেষকদের দাবি, পাখিদের বাসা তৈরির এই উপাদানের পরিবর্তন সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি নীরবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রকৃতির জন্য কতটা ভয়াবহ বিপজ্জনক হতে পারে। পাখিদের এই বাসাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ইউক্রেনের পরিবেশের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব কতটা- তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে বলেও মনে করছেন গবেষকরা।





