যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হলেন জে ক্লেটন

জে ক্লেটন
জে ক্লেটন | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত জে ক্লেটনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সেনেট। গতকাল (মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই) মার্কিন সেনেটে ৫১-৪৭ ভোটে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা বিল পোল্টের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ বিল পোল্টেকে নিয়ে আইনপ্রণেতাদের আপত্তির পর জে ক্লেটনকে এই পদে বেছে নেয়া হয়। আবাসন খাতের কর্মকর্তা পোল্টের জাতীয় গোয়েন্দা কার্যক্রমে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। গত মাসে পদত্যাগ করেন তৎকালীন গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড।

এরপর বিল পোল্টের ওপর সাময়িকভাবে গ্যাবার্ডের দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছিল। গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর এই পদে এবার স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলেন জে ক্লেটন। নতুন গোয়েন্দা প্রধান ক্লেটন নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের সাবেক মার্কিন অ্যাটর্নি। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলাসহ বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল মামলার তদারকি করেন তিনি।

ক্লেটনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, জে সব দিক দিয়েই অসাধারণ, এবং পরিচালক হিসেবে তিনি চমৎকার কাজ করবেন।

এর আগে পোল্টেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতারাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত পোল্টে আবাসন নিয়ন্ত্রক পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিচারের জন্য সুপারিশ করেছিলেন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই শুরু করেন।

ক্লেটনের ভোটাভুটির ঠিক আগেও এক্সে পোল্টে জানান, তারা গোয়েন্দা বিভাগে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পঞ্চম ও প্রায় চূড়ান্ত ধাপ বাস্তবায়ন করছেন।

পোল্টেকে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পরই ট্রাম্প তার জায়গায় সাবেক সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক ও ফেডারেল প্রসিকিউটর ক্লেটনের নাম প্রস্তাব করেন।

শুরুতে ডেমোক্র্যাটরা ক্লেটনকে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মনে করলেও চলতি মাসের শুনানির পর তাদের সেই মনোভাব বদলাতে শুরু করে।

শুনানিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন বিজয়ী হয়েছিলেন কি না তা জানতে চাওয়া হলে ক্লেটন বলেন, বাইডেনকে বিজয়ী হিসেবে ‘সার্টিফাই’ করা হয়েছিল এবং তিনি নিজে ‘নির্বাচন অস্বীকারকারী’ নন।

সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার ডেমোক্র্যাট নেতা মার্ক ওয়ার্নার জানান, রাজনৈতিক চাপের মুখে ক্লেটন কতটা শক্ত অবস্থান নিতে পারবেন তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন একটি স্থিতিশীল নেতৃত্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ক্লেটনের এই নিয়োগ ‘ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিল্যান্স অ্যাক্ট’ বা ফিসা আইনের ৭০২ ধারা দীর্ঘমেয়াদে নবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে পরোয়ানা ছাড়াই বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের যোগাযোগ নজরদারি করতে পারে মার্কিন সরকার।

সেনেটের মেজরিটি লিডার রিপাবলিকান জন থুন আশা প্রকাশ করে বলেন, ক্লেটনের নিয়োগের পর ফিসা আইন নবায়নে আইনপ্রণেতারা আর বাধা দেবেন না।

ইএ