একজন ফুটবলার কী একটি দেশের ফুটবলের সামগ্রিক চিত্র বদলে দিতে পারেন? নামটা যখন লিওনেল মেসি, আপনার উত্তরটা হ্যাঁ হতে বাধ্য। কারণ মেসির আগমনের পরই যে বদলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ফুটবল তথা মেজর লিগ সকারের অবস্থান।
২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে এমএলএসের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। যা শুধু একটি ট্রান্সফার ছিল না, ছিল পুরো লিগের ইতিহাস বদলে দেওয়া এক মুহূর্ত। কারণ এরপর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় তারকার কাছে এমএলএস হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতি মৌসুমে তারকারা দল বেঁধে যোগ দিচ্ছেন এমএলএসে।
মেজর লিগ সকারে মেসি নাম লেখানোর পর বছর না ঘুরতেই ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ সার্জিও বুসকেটস, জর্দি আলবা এবং লুইস সুয়ারেজ। পরের বছর এলএ গ্যালাক্সিতে যোগ দেন জার্মান তারকা মার্কো রিউস। ২০২৫ সালে আসে আরও বড় চমক। লস অ্যাঞ্জেলস এফসিতে সন হিউং-মিন, ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইট ক্যাপসে থমাস মুলার এবং ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল।
চলতি বছরও বজায় রয়েছে সেই ধারা। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা আন্তোনিও গ্রিজমান, পোলিশ তারকা রবার্ট লেওয়ানডস্কি এবং ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্যাসেমিরো যোগ দিয়েছেন মেজর লিগ সকারের বিভিন্ন ক্লাবে।
এমএলএসে বড় তারকার আগমন নতুন কিছু নয়। মেসির আগে ডেভিড বেকহ্যাম, থিয়েরি অঁরি, কাকা, ডেভিড ভিয়া, স্টিভেন জেরার্ড, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, আন্দ্রে পিরলো, জলাতান ইব্রাহিমোভিচ, ওয়েইন রুনি কিংবা গ্যারেথ বেলের মতো কিংবদন্তিরা এই লিগে খেলেছেন। কিন্তু পার্থক্যটা সংখ্যা এবং ধারাবাহিকতায়।
আগে যেখানে কয়েক বছর পরপর এক-দুজন বড় তারকা এমএলএসে আসতেন, সেখানে মেসির আগমনের পর প্রতি মৌসুমেই একাধিক বিশ্বমানের ফুটবলার এই লিগে যোগ দিচ্ছেন। একজন মেসিই যে বদলে দিয়েছেন এমএলএসের বৈশ্বিক অবস্থান, সেটা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





