খামেনির দাফন ঘিরে ইরানে বিশাল মহড়া; দাফন হবে মাশহাদে

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের পাশে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া একদল নারী
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের পাশে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া একদল নারী | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও জানাজা অনুষ্ঠানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের আনুগত্য ও ‘বিপ্লবী উদ্দীপনা’ প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে একটি ‘গণভোট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ধর্মীয় নেতারা। ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের আগে তেহরান, কোম, মাশহাদ ও ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন শোক কর্মসূচি ও জানাজা মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন খামেনি। তার উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মুজতবা খামেনি ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে খামেনি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ওই হামলায় প্রাণ হারান এবং মুজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন। জানাজা উপলক্ষে ইরান সরকার দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে সমবেত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এজন্য যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধা এবং হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বাইরে থেকে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এই ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ও দমনপীড়নের প্রতিবাদে হওয়া আন্দোলনে অনেককেই খামেনির মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তেহরানের বেশ কিছু এলাকা এখন শান্ত ও থমথমে থাকলেও জানাজা ঘিরে শহরজুড়ে বেসিজ মিলিশিয়াদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

খামেনির মৃত্যুতে শিয়া ইসলামের ‘শাহাদাত’ বা আত্মত্যাগের ঐতিহ্যকে সামনে আনা হচ্ছে। তেহরানজুড়ে কালো পতাকা ও নতুন নেতা মুজতবার সমর্থনে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। শনিবার থেকে তেহরানের মসজিদে খামেনির মরদেহ রাখা হবে এবং সোমবার রাজধানীতে বিশাল শোক মিছিল হবে। এরপর মরদেহ কোমে নেয়া হবে এবং বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে তাকে দাফন করা হবে। এই পুরো সময়জুড়ে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের আকাশসীমায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

এএম