হরমুজ উত্তেজনার পর দোহায় নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ

0

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কয়েক দিনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এই বৈঠকের ধরন ও উদ্দেশ্য নিয়ে দুই দেশ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ৩০ জুন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। স্ট্রেইট টাইমস প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে আলোচনার জন্য দোহায় পাঠাচ্ছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিনিদের সফরের সঙ্গে তাদের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই আমাদের কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।’ তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি দলগুলো ১ জুলাই কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বসতে পারে।

গত ১৭ জুন দুই পক্ষ একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই করলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় কাটছে না। ওমান উপকূলে জাহাজ চলাচল ও মাইন অপসারণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরকে দোষারোপ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দোহার এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে আমরা সামরিকভাবে জয়ী হচ্ছি।’ তিনি আবারও স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২৯ জুন জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় কাতারে আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা) ফেরত পাচ্ছে ইরান। তিনি একে ‘ইরানি জনগণের বড় বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

মার্কিন সিনেটরদের একটি অংশ এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই ব্রিফিংকে ‘তথ্যহীন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর পর আমেরিকানরা বিনিময়ে কী পেল তা সরকার বলতে পারছে না। উল্টো ইরান তেল বিক্রি করে কোটি কোটি ডলার আয় করবে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতেই থাকবে।

এএম