ধ্বংসস্তূপে মরদেহের সারি ভেনেজুয়েলায়; বিপর্যয়ের মুখে ৬৭ লাখ মানুষ

উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন
উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন | ছবি: রয়টার্স
0

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে গত তিন দিন আগে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চলছে বেঁচে থাকাদের সন্ধান। শনিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের উদ্ধারে মানুষ শাবল, দড়ি কিংবা খালি হাতেই কংক্রিটের স্তূপ সরাচ্ছে। উদ্ধারকাজে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সেনা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বাহিনী এই ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলায় অপ্রস্তুত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

জনরোষের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, দেশ এই বিপদে ‘একা নয়’। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে সচল করা হয়েছে এবং সেখানে মার্কিন সামরিক বিমান সি-১৭ অবতরণ করছে। এছাড়া উপকূলের কাছে একটি নৌযানও পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, অন্তত ১৭টি দেশের উদ্ধারকারী দল বেঁচে থাকাদের সন্ধানে কাজ করছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার মতে, প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যাদের জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যু ও ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাতিসংঘ ধারণা করছে, এই বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার ভৌত অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ ৬৭০ কোটি ডলার, যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।

এএম