সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর গত সোমবার থেকে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক চুক্তির অধীনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, অর্থ অবমুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার তা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ওই অর্থ দিয়ে ইরান কেবল মার্কিন ভুট্টা, সয়াবিন ও গম কিনতে পারবে।
বাহরিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবমুক্ত হতে যাওয়া সম্পদ নিয়ে কী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র অধিকার ইরানের। অন্য কোনো দেশের এ বিষয়ে কোনো প্রভাব বা ভূমিকা থাকার দাবি আমি প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরমাণু কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দুটি ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কার্যনির্বাহী দল গঠন করা হবে।
ইরানের এই জব্দ করা সম্পদের বড় অংশই হলো বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশে আটকে থাকা তেলের রাজস্ব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ। বাহরিনি স্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ জব্দ করায় এবং এর কিছু অংশ কাতারে থাকায় ওয়াশিংটন ও দোহার মধ্যে কিছু কারিগরি ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পণ্য কেনা বা আমদানির মতো প্রক্রিয়ায় ইরান অন্য কাউকে প্রভাব বিস্তার করতে দেবে না। এটি কেবল ইরানই ঠিক করবে।’
এদিকে লেবানন পরিস্থিতিকে ইরানের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে অভিহিত করেছেন বাহরিনি। তিনি বলেন, লেবাননে ইসরাইলি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যে লড়াই চলছে, তা বন্ধ হওয়া এই চুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইল যেন সহিংসতা বন্ধ করে, সে জন্য ওয়াশিংটনকে তাদের সব ধরনের প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানান তিনি। রোববার থেকে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর থাকলেও মঙ্গলবার ইসরাইলি গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদমাধ্যম। হিজবুল্লাহ একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বললেও ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ সৃষ্টিকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।





