লেবাননে দখলকৃত এলাকার নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলো ইসরাইল

ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের প্রকাশিত ম্যাপ
ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের প্রকাশিত ম্যাপ | ছবি: রয়টার্স
0

দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলের একটি সম্প্রসারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরাইল। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) প্রকাশিত এই মানচিত্রে দেখা গেছে, ইসরাইলি সেনারা আগের চেয়ে আরও কয়েক কিলোমিটার ভেতরে অবস্থান নিয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, প্রয়োজনে এই অঞ্চলের বাইরেও হামলা চালাতে পারে তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর কথা থাকলেও ইসরাইলের এই পদক্ষেপ সেই শর্তকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের ধাওয়া করতে দক্ষিণ লেবাননের ১০ কিলোমিটার (৬ দশমিক ২ মাইল) ভেতরে সেনা মোতায়েন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ‘কঠিন আলোচনা’ চালাচ্ছেন তারা।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে বুধবার স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে গত মার্চে দেশটিতে আগ্রাসন চালায় ইসরাইল। এই হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির সংকট তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এপ্রিলে দক্ষিণ লেবাননে তথাকথিত ‘বাফার জোন’ চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। নতুন মানচিত্রটিতে দেখা গেছে, লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি নাবাতিয়েহর কাছেও ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালাচ্ছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে চিহ্নিত যেকোনো হুমকি থেকে সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম লেবাননের ভূখণ্ডে কোনো ‘ইসরাইলি নিরাপত্তা অঞ্চল’ থাকার ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো হলুদ অঞ্চল নয়, লাল অঞ্চল নয়, সবুজ অঞ্চল নয়। ইসরাইলকে অবশ্যই চলে যেতে হবে এবং তারা চলে যাবে।’

ইরান চুক্তির পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম মন্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘উত্তর ইসরাইলের শহরগুলোতে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা প্রয়োজন। ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকা পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে সরে আসবো না।’

ট্রাম্প হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ধরতে গিয়ে ইসরাইলের আবাসিক ভবন ধ্বংসের কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে এই সমালোচনা কার্যত কোনো পদক্ষেপে রূপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তেল আবিবের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোউইজ বলেন, এই মানচিত্র প্রকাশের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল নির্ধারণের মাধ্যমে ইসরাইল মূলত বলতে চাইছে, ‘আমরা এখানেই থাকবো, এটি আমাদের জায়গা।’

এএম