পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে ইসরাইল; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চূড়ান্ত চুক্তিতে যত চ্যালেঞ্জ

তেহরান ব্যস্ত সড়কে ইমাম খামেনি ব্যানার
তেহরান ব্যস্ত সড়কে ইমাম খামেনি ব্যানার | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রায় চার মাসের যুদ্ধের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার টেবিলে বসছেন মার্কিন ও ইরানি আলোচকেরা। বাজি অত্যন্ত উঁচুতে, কারণ একটি ব্যাপকভিত্তিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে একের পর এক বাধা। বেশিরভাগ বিশ্লেষক সন্দিহান যে, সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পারমাণবিক ফাঁকফোকর বন্ধ হবে কি?

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ট্রাম্প চান, ইরানের মজুত করা প্রায় বোমা তৈরির মানের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হোক বা ধ্বংস করা হোক। ইরান কোনোটাই মানতে নারাজ। তবে উপাদানটি মিশিয়ে মাত্রা কমানোর বিষয়ে সম্ভাব্য সম্মতির ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়েও দুই পক্ষের অবস্থানের ফারাক বিস্তর। যুক্তরাষ্ট্র কখনো কখনো শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবি করেছে, ইরান বলছে এই অধিকার সে ছাড়বে না। পাঁচ থেকে ২০ বছরের একটি অস্থায়ী স্থগিতাদেশ নিয়ে আগে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে জটিলতা

হরমুজ প্রণালি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। প্রণালিটি পরিচালনায় ইরান নিজের ভূমিকা ধরে রাখতে চায়, যা একটি বড় বিবাদের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ সম্পদ নিয়ে টানাপোড়েন

ইরান চায় ট্রাম্প দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিন এবং জব্দ করা কোটি কোটি ডলার ছেড়ে দিন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি হবে ধাপে ধাপে এবং তেহরান শর্ত মানলে তবেই। সমঝোতা স্মারকে ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে আবারও তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়ার ফলে ট্রাম্পের সমালোচকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন।

ইসরাইল কি বাদ সাধবে?

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তার দেশের লড়াই কোনো মার্কিন-ইরান চুক্তির আওতায় পড়ে না। লেবানন সংকটই এই আলোচনার সবচেয়ে নাজুক বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরান বলছে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

আলোচনার ধরনে বিস্তর ফারাক

মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জেরেড কুশনার। তাদের সঙ্গে ইরানি আলোচকদের কৌশলগত পার্থক্য বড় সমস্যা হতে পারে। ট্রাম্প দ্রুত ফল চান, ইরান পছন্দ করে দীর্ঘ দর-কষাকষি। ওবামার আমলে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে লেগেছিল প্রায় দুই বছর। ৬০ দিনে বিস্তারিত চুক্তি সম্পন্ন করা তাই বাস্তবে কঠিন।

পারস্পরিক অবিশ্বাস

ইরান ট্রাম্পের ওপর গভীরভাবে সন্দিহান, কারণ গত এক বছরে আলোচনার মাঝেই দুইবার হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নজর রাখবে ইরান সময়ক্ষেপণ করছে কি না। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি, যিনি তার বাবার চেয়ে কঠোর বলে বিবেচিত, তার অবস্থান আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় তার বাবা, মা, স্ত্রী ও পুত্র নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, এই পর্যায়ের আলোচনা আগের চেয়ে 'সহজ' হবে। দুই পক্ষই সংঘাত শেষ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ রয়েছে, ইরানও সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতবিক্ষত। তবু যদি চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, সীমিত পরিসরে আলোচনা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও নতুন সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

এএম