ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অন্তত ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের তহবিল ধাপে ধাপে ছাড় করার দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, বিদেশের ব্যাংকগুলোতে তাদের ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি সম্পদ আটকে আছে, যদিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মতে এই পরিমাণ কিছুটা কম।
জব্দ করা সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশটি রয়েছে চীনে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ২০ বিলিয়ন থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের ইরানি অর্থ আটকা পড়ে আছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি লেনদেনের বেশিরভাগই ডলার-ভিত্তিক হওয়ায় ওয়াশিংটন ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ ছাড় না দিতে চাপ দিয়ে থাকে।
ইরানি বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার বিপরীতে ইরাকের কাছে পাওনা রয়েছে ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার। মার্কিন কড়াকড়ির কারণে এই অর্থ তেহরানে স্থানান্তর করতে পারছে না বাগদাদ। অন্যদিকে, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের পাওনা রয়েছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার করে। ২০১৮ সালে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে এই দুই দেশ ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ছিল।
এছাড়া কাতারের কাছে রয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। মূলত মানবিক কাজের জন্য এই অর্থ ব্যবহারের কথা থাকলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামাসের হামলার পর ওয়াশিংটন এতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। জাপান, ওমান ও লুক্সেমবার্গেও ইরানের কিছু সম্পদ রয়েছে। মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে এই বিপুল অর্থের অধিকার ফিরে পাওয়া এখন তেহরানের জন্য বড় পরীক্ষা।





