‘ব্যবহার সংশোধন’ না করলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি: ইরান

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজ | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যবহার সংশোধন’ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে সমুদ্রপথটি সচল করার আলোচনার মধ্যে দেশটি নতুন কিছু নাটকীয় শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ও নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হুমকি না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এ ছাড়া ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা অপসারণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং জব্দ করা সম্পদ ‘বিনা শর্তে’ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ওয়াশিংটন সব সময় বলে আসছে, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হওয়ার কথা ছিল। চূড়ান্ত চুক্তির জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা আগামী সপ্তাহে শেষ হতে যাচ্ছে।

এদিকে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় ইরান একটি পৃথক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার তিনি বলেন, জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণের বিষয়ে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেয়া অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। ওমানও জানিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে চলছে।

বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি অ্যাডনক-এর একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। আমিরাত এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অ্যাডনক জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তাদের ডজনের বেশি জাহাজ হুতি ও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ওমানের খাসাব শহরের কাছে আরও একটি জাহাজ প্রজেক্টাইল হামলার শিকার হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে।

এএম