চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি হামলা; ক্ষুব্ধ ইরান, ঝুঁকিতে সমঝোতা

দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন আন-নাহর গ্রামে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ভবন
দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন আন-নাহর গ্রামে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ভবন | ছবি: আল জাজিরা
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী (শুক্রবার, ১৯ জুন) সই হতে যাওয়া শান্তি চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ থামেনি। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, আজ (বুধবার, ১৭ জুন) নাবাতিয়ের কফার তিবনিত ও বিনত জবেইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন ও বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জবাবে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাও ইসরাইলি বাহিনীর দিকে অন্তত ১০টি রকেট ছুড়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই হামলাগুলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলা এবং দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে তা চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইনা খোদর বৈরুত থেকে জানান, চুক্তির পর সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমলেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিশেষ করে নাবাতিয়ের উঁচু ও কৌশলগত এলাকাগুলো দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে নিজেদের গ্রামে ফেরা মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন এবং তারা ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি মানার ওপর ভরসা পাচ্ছেন না।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, গত রোববারের তুলনায় গোলার আদান-প্রদান কমে ১৭৪টিতে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৬৯টি ইসরাইলের এবং মাত্র ৫টি হিজবুল্লাহর। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা এখন চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত। ইরান দাবি করেছে যে, গত দুই দিনে ইসরাইল ৮৪ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং হামলা বন্ধ না করলে তাদের ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার জানিয়েছে, ইসরাইলের গণ-উচ্ছেদ নির্দেশ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল। সংস্থাটির মতে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ‘নো-গো জোন’ ঘোষণা করে হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক উৎখাত করেছে এবং তাদের নিজেদের ঘরে ফিরতে দিচ্ছে না। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে লেবাননে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এএম