চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া ও চাঁদাবাজি: উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা

র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার অস্ত্র
র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার অস্ত্র | ছবি: এখন টিভি
0

প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি, গুলিবর্ষণ আর হত্যা—চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রের ব্যবহার ধারণ করেছে ভয়াবহ রূপ। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর খুনোখুনিতে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে একের পর এক অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গুলি। প্রশ্ন উঠছে—বিদেশি এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে কোন পথে আসছে? কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এই অবৈধ অস্ত্রের নেটওয়ার্ক?

সম্প্রতি নগরীর বায়েজিদে নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় ১ হাজার ৩৫০টি বুলেট। বড় বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারি অস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। একই দিন বায়েজিদের খন্দকার পাড়ায় র‍্যাবের অভিযানে আমেরিকার তৈরি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটারের বিদেশি পিস্তল এবং পটিয়ার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে পাওয়া যায় আরও ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র। পরদিন হালিশহর এলাকায় টেপ মোড়ানো আরও দুটি বিদেশী পিস্তল ও বায়েজিদে বিদেশি অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এভাবে প্রতিদিনই দেশি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে বন্দরনগরীতে।

প্রশ্ন উঠছে এতো বিপুল অস্ত্রের উৎস কোথায়? কখনো চাঁদাবাজি, কখনও অস্ত্র হাতে মহড়া, কখনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বসতঘরে হামলা করছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়া দিনে দুপুরে সশস্ত্র মহড়া আর খুন খারাবি আতংক ছড়িয়েছে পুরো জনপদে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘অস্ত্রধারী যারা সন্ত্রাসী আছে, এদের বিরুদ্ধে আমাদের টলারেন্স জিরো। আমরা যেকোনো মূল্যে এদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য বদ্ধপরিকর।’

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পার্বত্য সীমান্ত ও মিয়ানমারের সীমান্ত ব্যবহার করে আসা অবৈধ অস্ত্রের চালান স্থানীয় সন্ত্রাসী ও গ্যাংগুলোর কাছে সরবরাহ করে কয়েকটি চক্র। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে দাবি করে পুলিশ বলছে, গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে একে-৪৭ সহ ১ হাজার ১৯১টি অস্ত্র, ১০ হাজার ৬৭৪টি গোলাবারুদ ও ১ হাজার ৬৩৯টি রাইফেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ নাজিমুল হক বলেন, ‘এখানে অস্ত্র এবং অস্ত্রধারী হলো সবথেকে বড় নাম্বার ওয়ান এনিমি। তো তাকে এবং তাদেরকে আমরা এখানে স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে কোনোভাবেই থাকতে দিচ্ছি না।’

দেড় বছরে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ড আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। যার বেশির ভাগই প্রকাশ্যে গোলাগুলি। অস্ত্রের এমন ছড়াছড়িতে আতংকিত চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

আইনবিদ ও মানবাধিকার কর্মী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আছি। রাষ্ট্র আমাদের কি দায়িত্ব নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আছি।’

এসব অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালানের পথ বন্ধ করা না গেলে জননিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর প্রভাব ভয়াবহ হওয়ার আশংকা সচেতন মহলের।

ইএ