উপসাগরের উত্তরাংশে ইরানের উপকূল থেকে ১৬ মাইল দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। হরমুজ প্রণালি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০০ মাইল। গভীর জলের কারণে এখানে বড় বড় তেলের ট্যাঙ্কার সহজে ভিড়তে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে হতো। এটি দখলে নিলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং তেহরানের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ পড়বে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
গত মার্চ ও এপ্রিলে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, দ্বীপটির সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে এবং এরপর তেল অবকাঠামোতে হামলা হতে পারে। সে সময় এই দ্বীপে স্থলবাহিনী পাঠানোর কথাও বিবেচনা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সব সময়ের পছন্দ হলো খার্গ দ্বীপ দখলে নেয়া, এটিই আমার অগ্রাধিকার। তবে আমি জানি না, আমেরিকার এই ধকল সহ্য করার সক্ষমতা আছে কি না।’ তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এই দ্বীপ দখলে নিলেও তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাহিনী খুব দ্রুত দ্বীপটি দখল করতে পারলেও এতে যুদ্ধের কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে না। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের (এফডিডি) দুই গবেষক রায়ান ব্রোবস্ট ও ক্যামেরন ম্যাকমিলান জানান, এই পদক্ষেপ যুদ্ধকে কেবল প্রসারিত করবে। সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত ‘ফার্স্ট-পারসন ভিউ ড্রোন’ দিয়ে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা হতে পারে। নিহত মার্কিন সেনাদের ভিডিও প্রকাশ করে তেহরান তা প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক কমান্ডার জোসেফ ভোটেল বলেন, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ৮০০ থেকে ১০০০ সেনার প্রয়োজন হবে। তবে তাদের প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। এই পদক্ষেপ মার্কিন সেনাদের চরম অরক্ষিত করে তুলবে। এর মাধ্যমে কৌশলগত কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।





