সফরের দ্বিতীয় দিনে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ও শি জিনপিং রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, এই শীর্ষ সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজের সময় শি বলেন, ‘চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এখন আরও গভীর এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা আরও সুনির্দিষ্ট হয়েছে।’
বিদায় বেলায় পিয়ং ইয়ংয়ের বাসিন্দারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে পতাকা নেড়ে এবং স্লোগান দিয়ে শি জিনপিংকে উষ্ণ বিদায় জানান। বিমানবন্দরে কিম জং উন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শি-কে বিদায় জানান। এর আগে দুই নেতা উত্তর কোরিয়ার একটি রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাঠে একটি ফার গাছ রোপণ করেন, যা সিনহুয়ার মতে দুই দেশের ‘চিরসবুজ বন্ধুত্বের’ প্রতীক। এছাড়া শি কোরিয়া যুদ্ধে শহিদ চীনা সৈন্যদের স্মরণে নির্মিত ‘চীন-কোরিয়া মৈত্রী স্মৃতিস্তম্ভ’ পরিদর্শন করেন।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে, কিম জং উন শি জিনপিংকে আশ্বস্ত করেছেন যে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়া চীনের ‘এক চীন নীতি’ (ওয়ান চায়না প্রিন্সিপাল) পুরোপুরি সমর্থন করে যাবে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে বেইজিং এই নীতি কঠোরভাবে মেনে চলে।
তবে এই সফরের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। সিনহুয়া বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের মতো ব্যবহারিক বিষয়গুলোতে জোর দিলেও কেসিএনএ এই সফরকে সমমর্যাদার দুই সঙ্গীর চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, উত্তর কোরিয়া এমনভাবে সম্পর্কটি উপস্থাপন করেছে যেখানে তারা কোনোভাবেই চীনের অধীনস্থ বা সাহায্যপ্রার্থী নয়। সিউলের কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক হং মিন মনে করেন, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও তাইওয়ান ইস্যুতে সংহতির বার্তা দিয়ে নিজেদের সমান অংশীদার হিসেবে জাহির করেছে।
সফরের অংশ হিসেবে শি ও ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। কিম ও তার স্ত্রী রি সল জু তাদের সঙ্গে ছিলেন। বন্ধুত্বের ৬৫ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক ভোজসভায় শি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন এক ‘নতুন ঐতিহাসিক প্রারম্ভবিন্দুতে’ পৌঁছেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে কিমের পারমাণবিক কর্মসূচি বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কোনো আলোচনার তথ্য জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সম্ভবত এই সফরকে কেবল প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্কের বলয়েই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছে।





