লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী; অভিযোগ তেহরানের

ইসমাইল বাঘাই
ইসমাইল বাঘাই | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের ওপর ইসরাইলের সাম্প্রতিক দফার দফায় চালানো বিমান হামলা মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ‘পুরোপুরি সমন্বিত’ ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। গতকাল (সোমবার, ৭ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগ করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘জায়নবাদী শাসকের এই কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি দায় অত্যন্ত স্পষ্ট। এই উত্তেজনা বৃদ্ধির সব পরিণতির দায়ও যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।’ তবে ইসরাইলের আর্মি রেডিও এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত চালানো সব হামলা ছিল একান্তই ইসরাইলি। ওই কর্মকর্তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইল ইরানে অন্তত কয়েক দিনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।’

গত রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে চলমান যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইসরাইলি বোমা হামলার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ওই হামলার প্রতিবাদে উত্তর ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এর জবাবে ইরানে কয়েক দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এই প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী থাকবে।’

ইরানি মুখপাত্রের মতে, ‘তেল আবিব এমন কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না যা অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে পারে। তবে তেহরান মাঠ পর্যায় ও কূটনীতি—উভয় মাধ্যমেই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।’ তিনি জানান, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসেন নাকভির ইরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা আলোচনা সচল করা। বাঘাই আবারও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের জব্দ করা তহবিল ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি-র সমালোচনা করে বাঘাই বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে গ্রোসি-র দৃষ্টিভঙ্গি ‘‘রাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’’।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে আছে। যদিও এপ্রিলের ৮ তারিখে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধের জেরে পরবর্তী সময়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

এএম