ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ২

রুশ ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত একটি আবাসিক ভবনে কাজ করছেন পুলিশ বিশেষজ্ঞরা
রুশ ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত একটি আবাসিক ভবনে কাজ করছেন পুলিশ বিশেষজ্ঞরা | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে বিশ্ব নেতারা লন্ডনে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আশারক আল-আওসাতের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ রোববার ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। প্রতিবেশী দেশটিতে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে রাশিয়ার বিপর্যয়ের মুখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে তারা এই আলোচনা করবেন।

ইউক্রেনের দক্ষিণ অঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সি এক মিনিবাস চালক নিহত হয়েছেন। রোববার টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস এ তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া মধ্য ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে পৃথক এক হামলায় ৫৯ বছর বয়সি এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। আঞ্চলিক সামরিক প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা জানান, ওই এলাকার দুটি জেলায় রুশ ড্রোন ও আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। গানঝা আরও জানান, এসব হামলায় ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে হারানোর চেয়ে বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এই সাফল্য পেল দেশটি।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের প্রভাবে সংকটে পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতি। দেশটিতে নিত্যপণ্যের দাম ও কর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঋণের খরচ গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে দেশটি।

এমন প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। চিঠিতে তিনি বলেন, তিনি ‘পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের জন্যও প্রস্তুত। তবে গত শুক্রবার রাশিয়ার একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন দাবি করেন, রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার তথ্য সঠিক নয়। তার মতে, তাদের প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের দেশগুলোর গত কয়েক বছরের প্রবৃদ্ধির সমান।

এএম