পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান- যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা কিংবা গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের পিস অব বোর্ড গঠন; কোনো কিছুতেই স্বস্তি ফিরছে না অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির।
গেল এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তি ইস্যুতে কম জলঘোলা করেননি ট্রাম্প। কখনও ইরান যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে দাবি করলেও ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফের দেশটিতে সামরিক হামলা শুরুর হুংকার দেন ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষণে ক্ষণে মত পরিবর্তন ক্রমশ জটিল করছে ভূরাজনীতির মঞ্চ।
এরই মধ্যে মুখে আলোচনার কথা বললেও, নানা অজুহাতে ইরানের কেশম দ্বীপসহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে কাতার কুয়েত- বাহরাইনসহ গালফভুক্ত বিভিন্ন দেশে নতুন করে হামলার দাবি করেছে তেহরান। পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে হরমুজেও।
শুধু ইরান নয়, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিনই লেবাননে নিহতের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বুধবার হিজবুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণ অংশ ছেড়ে চলে যাবে এই শর্তে তেল-আবিব ও বৈরুত যুদ্ধবিরতি শর্তে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে ইতোমধ্যে তা প্রত্যাখ্যান করছে হিজবুল্লাহ ও আইডিএফ।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও গাজাতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি। সম্প্রতি ইসরাইলি বাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ দখলের নির্দেশও দিয়েছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপর থেকেই হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রণের নামে গাজায় হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে আইডিএফ।
মধ্যপ্রাচ্যের টালমাটাল পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির প্রতি নির্ভর না করে বিবাদমান পক্ষগুলোকে স্থায়ী সমাধান বা শান্তিচুক্তির দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
চ্যাথাম হাউসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সিনিয়র কনসাল্টিং ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। আমার মতে, যুদ্ধবিরতি সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান নিশ্চিত করে না। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পক্ষগুলো পাল্টাপাল্টি হানাহানি বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।’
এছাড়াও, সংঘাতের অন্তর্নিহিত কারণগুলোর সমাধানের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শান্তির অর্থ হলো সংঘাতের অন্তর্নিহিত সব সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু যদি এগুলোর মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধবিরতি কোনো না কোনো সময়ে শেষ হয়ে যাবে।’
মেকেলবার্গের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সমাধানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননে বা ফিলিস্তিনিদের মতো ইস্যুগুলোর সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখে না। ওয়াশিংটন বরাবরই ইসরাইলের পক্ষ গ্রহণ করে।’
এছাড়াও, গালফভুক্ত দেশগুলোকে শত্রুপক্ষের অতর্কিত হামলা থেকে বাঁচতে নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন মেকেলবার্গ।




