যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: সম্ভাব্য চুক্তিতে কী থাকছে, কী থাকছে না

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত এখনো সামনে আসেনি এবং এতে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে, তবে সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল দিকগুলো নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতে পারে। এই সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে, ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা চলবে।

এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের পেতে রাখা মাইনগুলো সরিয়ে নিতে এবং কোনো জাহাজ থেকে টোল আদায় না করতে রাজি হবে। বিনিময়ে ১৩ এপ্রিল থেকে চালু করা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আজ (রোববার, ২৪ মে) বলেছেন, এই চুক্তি সফল হলে হরমুজ প্রণালি কোনো টোল ছাড়াই ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ হবে। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি শেষ পর্যন্ত ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

আরও পড়ুন:

চুক্তির ফলে বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থও অবমুক্ত হতে পারে। এছাড়া ইসরাইল ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বৈরিতা বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্সকে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান তাদের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) হস্তান্তরে রাজি হয়নি।

তিনি স্পষ্ট করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিতে পরমাণু ইস্যুটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ইরান তাদের মজুত ইউরেনিয়াম ছেড়ে দিতে ইচ্ছুক।

পরমাণু ইস্যু ছাড়াও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন কমানোর বিষয়ে চুক্তিতে বিশেষ কোনো উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।

এএম