ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর চলা এই হামলায় আবাসিক ভবন, ছাত্রাবাস, গাড়ি মেরামত কেন্দ্র ও শপিং মলসহ শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া রাতভর ৬০০ ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। এর মধ্যে ৬০৪টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা একে কিয়েভের ওপর চালানো অন্যতম বৃহত্তম হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মধ্য ইউক্রেনের বিলা তেরকভা শহরে রাশিয়া হাইপারসনিক ‘ওরেসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে ৮৩ জন আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভ সবচেয়ে বেশি আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে এবং এই রুশ হামলার মূল লক্ষ্যই ছিল কিয়েভ।’ হামলার পর তিনি বিশ্বনেতাদের কেবল নিন্দা না জানিয়ে মস্কোর ওপর আগাম প্রতিরোধমূলক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, কিয়েভের মার্কিন দূতাবাস যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে।
কিয়েভের এক মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেয়া ৬২ বছর বয়সী বাসিন্দা নাতালিয়া জভারিচ এই রাতকে ‘ভীষণ ভীতি ও আতঙ্কের’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে তারাস শেভচেঙ্কো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের শিক্ষক নাতালিয়া শেভচেঙ্কো হামলাকারী রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা পূর্ব লুহানস্কের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি কলেজের ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। পুতিন একে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে কঠোর প্রতিশোধের প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা তাস জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৩ জন আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী অবশ্য পুতিনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে রুশ সংবাদমাধ্যমের ‘মনগড়া তথ্য’ বলে অভিহিত করেছে। ইউক্রেন জানায়, তারা কেবল সামরিক অবকাঠামোতেই আঘাত হেনেছে এবং তাদের লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালে গঠিত রাশিয়ার এলিট ড্রোন প্রযুক্তি ইউনিট ‘রুবিকন’-এর সদর দপ্তর। তবে ফ্রন্টলাইন থেকে এত দূরে কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়া এমন বেসামরিক প্রাণহানির দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। গত বুধবার রাতে স্নিঝনে নামক রুশ অধিকৃত শহরের একটি ড্রোন পাইলট প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ইউক্রেনের হামলায় অন্তত ৬৫ জন ক্যাডেট ও ১ জন প্রশিক্ষক নিহত হন বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এছাড়া খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষেবার সদর দপ্তর ও একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলায় প্রায় ১০০ রুশ সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন জেলেনস্কি। তবে ইউক্রেনের এমন উচ্চ হতাহতের দাবিও স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইউক্রেন বর্তমানে মধ্য ও দূরপাল্লার ড্রোনের একটি বড় বহর তৈরি করেছে, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে গভীর আঘাত হানতে সক্ষম। জেলেনস্কি গতকাল শনিবার জানান, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী রাশিয়ার ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে পার্ম ক্রাই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক কারখানায় সফল আঘাত হেনেছে, যা রুশ সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করতো।





