গাজায় সংঘাতে ইসরাইলকে অস্ত্র দিয়েছে ৫১ দেশ

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় হামলা
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় হামলা | ছবি: সংগৃহীত
0

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গাজা গণহত্যার বিরুদ্ধে দেয়া রায় উপেক্ষা করে, পুরো যুদ্ধের সময় ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি করেছে গণহত্যা কনভেনশেনে স্বাক্ষরকারী ৫১ দেশ। এমনকি গেল বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও, ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসেই ইসরাইলে ৮৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছে, গাজাকে নরক বানানোর ক্ষমতা ইসরাইলের একার পক্ষে না থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নতজানু দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহ সহজ করেছে গাজাজুড়ে ইসরাইলের কিলিং মিশন।

ইসরাইলি আগ্রাসন ও দখলদারিত্বে পৃথিবীর বুকে একখণ্ড নরকের নাম গাজা । গেল বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, উপত্যকাটিতে চলমান ইসরাইলি গণহত্যা।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজাজুড়ে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ যখন তুঙ্গে, তখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত উপত্যকাটিতে গণহত্যার স্পষ্ট ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী ১৫৩টি দেশকে এটি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়।

তবে আইসিজের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরো গাজা যুদ্ধের সময় ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষর ৫১টি দেশ। সম্প্রতি ইসরাইলি ট্যাক্স অথোরিটির ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমদানি সংক্রান্ত তথ্য ও কাস্টমস রেকর্ড চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

গণমাধ্যমটি বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ২ হাজার ৬০৩টি অস্ত্রের চালান প্রবেশ করে। এসময় আমদানিকৃত অস্ত্রের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮৮ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার। আর মোট মূল্যের ৯১ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে আইসিজের রায়ের পর।

আরও পড়ুন:

২০২২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইসরাইলে ৬৫ লাখেরও বেশি কাস্টমস এন্ট্রি ধরে ধরে ইসরাইলের অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলোর নাম ও অস্ত্রের বিবরণের খোঁজ বের করে আল-জাজিরা। শুধু বোমা, গ্রেনেড বা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো মারণাস্ত্রই নয়, সামরিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীও রপ্তানি হয়েছে ইসরাইলে।

ইসরাইলি ট্যাক্স অথোরিটির তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পর তেল আবিবে চার শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশের যোগান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের যোগান ২৬ শতাংশ।

ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের অস্ত্র বাণিজ্যের হদিস জানতে ২০২৪ সালে ভারতের অস্ত্র রপ্তানির একটি গোপন নথি সন্ধান পায় আল-জাজিরা। গণমাধ্যমটি বলছে, ভারতের একাধিক প্রতিরক্ষা কোম্পানি সরাসরি ইসরাইলের রাষ্ট্রয়াত্ত কোম্পানি রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস ও মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে সরাসরি মারণাস্ত্রের কাঁচামাল পাঠায়।

এছাড়াও, বিশ্বব্যাপী গাজা যুদ্ধের নিন্দা ও নির্মমতার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জনরোষ উপেক্ষা করে ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি দেশের তালিকায় রয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, কানাডা, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিলের মতো রাষ্ট্রের নাম।

বিশ্লেষকরা বলছে, ইসরাইলের একার পক্ষে গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার সক্ষমতা ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নতজানু দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহের কারণেই গাজায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে ইসরাইল। এমনকি গেল বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর শুধু শেষ দুই মাসে ইসরাইলে ৮৯. ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করা হয়।

ইএ