প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেকগুলো ড্রোন আকাশে ওড়ার সময় গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার সময় বেশ কিছু ড্রোন ভূমিতেই ধ্বংস হয়। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি এমকিউ-৯ ড্রোন যুদ্ধাস্ত্র বহনেও সক্ষম। সাধারণত এটি ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন’ গাইডেড বোমা বহন করে।
ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়ে থাকতে পারে। তবে এই মাসের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে ২৪টি ড্রোন ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ড্রোনের এই ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মে মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, এই যুদ্ধব্যয় ইতোমধ্যে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী পর্যায়ক্রমে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করলেও এটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল অ্যাটমিকস’ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য এর উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘বিধ্বস্ত’ করার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে ইরান নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহে এক মার্কিন কর্মকর্তা ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে বলেছেন, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা সম্ভবত তাদের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের উড্ডয়ন পথ বা ফ্লাইট প্যাটার্ন চিহ্নিত করে ফেলেছেন। ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তবে এতে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। ওই সময় বিমানটির পাইলটদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি কোনো মার্কিন পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারতো, তবে ওয়াশিংটন চরম চাপের মুখে পড়তো।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন পথ চিহ্নিত করতে ইরানকে সহায়তা করে থাকতে পারে রাশিয়া। এর ফলে ইরান তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুবিধাজনক অবস্থানে মোতায়েন করতে পেরেছে। ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সমঝোতা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক কর্মকর্তাদের স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি সরবরাহ করে ইরানকে সাহায্য করেছে। মূলত নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা। গত জুন ২০২৫-এর যুদ্ধের পর চীন ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল বলে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘মিডল ইস্ট আই’। ওই যুদ্ধের পরই মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করেছিল।




