যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের নেতাদের মধ্যে সরাসরি কথা না বলার এই রীতি চলে আসছে ১৯৭৯ সাল থেকে। ওই বছর তাইপেয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে বেইজিং সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা চীন এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে যেকোনো ধরনের দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির কঠোর বিরোধিতা করে চীন।’ বেইজিং ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি’কে কোনো ভুল বার্তা না দেয়।
গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের সফল সম্মেলনের পর ট্রাম্প তার চীন সফরকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন। তবে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এই প্যাকেজে ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থাকার কথা রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা না জানা পর্যন্ত পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারক এলব্রিজ কোলবির বেইজিং সফর অনুমোদন করছে না চীন।
এর আগে গত সপ্তাহে বেইজিং থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তাইওয়ান যিনি চালাচ্ছেন তার সঙ্গে তাকে কথা বলতে হবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় চীন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংবেদনশীল বিষয়। শি সতর্ক করেছিলেন, এই বিষয়টি ভুলভাবে সামলানো হলে দুই পরাশক্তির মধ্যে ‘সংঘাত’ তৈরি হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে অবশ্য সাফ জানিয়েছেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ এবং এই অঞ্চলের শান্তির বিনিময়ে কোনো আপস করা হবে না। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট লাই ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতে পারলে ‘খুশি’ হবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালেও নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৎকালীন তাইওয়ানি নেত্রী সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে প্রথা ভেঙেছিলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে বেইজিং সে সময় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।





