তবে, এই পরিবর্তন কি সত্যিই কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর হতে যাচ্ছে, নাকি এটি স্রেফ বিরোধীদের খোঁচা দেয়ার জন্য একটি ‘মিম’ হয়ে থাকবে—তা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভেতরেই বিতর্ক চলছে। মজার ব্যাপার হলো, এই নাম পরিবর্তনের ধারণাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই এসেছে। এপ্রিলে ট্রাম্প এক ব্যক্তির পোস্ট শেয়ার করেছিলেন যেখানে লেখা ছিল—আইসের নাম বদলে ‘নাইস’ করা হোক, যাতে গণমাধ্যম সারা দিন বলতে বাধ্য হয় ‘নাইস’ (চমৎকার) এজেন্টরা কাজ করছে। ট্রাম্প তখন লিখেছিলেন, ‘দুর্দান্ত বুদ্ধি! এটাই করো।’
নাম পরিবর্তনের এই বিষয়টি নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে প্রাথমিক হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। কারণ নাম বদলালে দাপ্তরিক কাগজ থেকে শুরু করে এজেন্টদের পোশাক ও ব্যাজ—সবই পরিবর্তন করতে হবে। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, এই বাহিনীর অনেক সদস্য এবং তার সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোমান এই নাম পছন্দ করছেন না। তারা ‘আইস’ নামটির মাধ্যমেই নিজেদের শক্তিশালী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চান।
আরও পড়ুন:
আইস বিভাগটি মূলত ২০০২ সালে কংগ্রেসের একটি আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। তাই এর নাম পরিবর্তন করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই কারিগরি জটিলতা খুব একটা বড় বাধা নয়। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগ বা ‘ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স’র নাম বদলে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ করার নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন, যা কার্যকর করতে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার নির্দেশও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই নাম ব্যবহার করতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর কড়াকড়িও আরোপ করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘আইস’ বিভাগটি ব্যাপক জনরোষের মুখে রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপলিসে এই বাহিনীর হাতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর জনমত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মার্কিনি মনে করেন এই সংস্থাটি শহরগুলোকে অনিরাপদ করে তুলছে। এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটাতে ট্রাম্প একে ‘নাইস’ করার কথা ভাবলেও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা টিপ্পনি কেটে বলেছেন, ‘এটি আসলে লিবারেলদের ট্রোল করার জন্য একটি মজাদার মিম মাত্র এবং এটি বেশ ভালো কাজও করেছে!’





