হান্টাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ না কাটতেই নতুন করে বিশ্বব্যাপী চোখ রাঙাচ্ছে প্রাণীবাহিত ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ইতোমধ্যে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ভ্যারিয়েন্ট বুন্দিবুগিও ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে সংক্রমণ ও প্রাণহানি। ইবোলা আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে উগান্ডাতেও।
রোববার ইবোলা ভাইরাস পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে ডব্লিউএচও বলছে, পরিস্থিতি বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও কঙ্গোর সঙ্গে স্থল-সীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলোতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত কঙ্গোর সরকার। এরই মধ্যে, সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে থাকা ইতুরি প্রদেশে জরুরি ইবোলা বিশেষায়িত চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন:
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. স্যামুয়েল রজার কম্বা বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বাড়ায় আমরা অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন করেছি। আমরা যত দ্রুত রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারব, তত দ্রুত রোগটি নির্মূল করতে পারর। তাই রোগীদের বলব, উপসর্গ দেখা দিলে ভয় না পেয়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের শরণাপন্ন হতে।
তবে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কঙ্গোর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরই মধ্যে ডব্লিউএইচও ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি মাস্ক, গ্লোভস, আইসোলেশন সরঞ্জামসহ পাঁচ টন জরুরি সামগ্রী কঙ্গোতে পাঠিয়েছে।
কঙ্গোতে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. অ্যান অ্যান্সিয়া বলেন, বর্তমানে যে চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে তা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। আমরা কঙ্গোর রাজধানী থেকে মজুত থাকা সরঞ্জাম ইতুরিতে এনেছি। এছাড়াও নাইরোবি থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম আসছে।
বাদুড় বা বানরের সংস্পর্শ ছাড়াও ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা বা বমি থেকে ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে। এটি কঙ্গোতে ইবোলার ১৭ তম সংক্রমণ। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা, বিশেষ করে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাপট দেখায় ইবোলা । প্রাণ যায় ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের। আর ভাইরাস আবিষ্কৃত হওয়ার পর আফ্রিকায় গেল ৫০ বছরে ইবোলায় প্রাণহানি ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।





