স্বার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড় তাইপে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে বেইজিং

তাইওয়ানের শহর
তাইওয়ানের শহর | ছবি: সংগৃহীত
0

স্বেচ্ছায় যুদ্ধ জড়ানোর উদ্দেশ্য না থাকলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না তাইওয়ান। দ্বীপ রাষ্ট্রটির স্বাধীনতার প্রসঙ্গে ট্রাম্পের চীনঘেষা বক্তব্যের জেরে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট। সাফ জানিয়েছেন, বল প্রয়োগ করে স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইলে চুপ থাকবে না তাইপে। এদিক, এশিয়া টাইমসের খবর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও তাইওয়ান মুখোমুখি পূর্ব উপকূলে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে চীন। তাইপকে নিয়ে উদ্বেগের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াতে প্রচুর যন্ত্রাংশ কিনছে বেইজিং।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো ভালো চোখে দেখবে না বেইজিং। ২ দিনের সফর শেষে শি এর তালে তাল মিলিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান স্বাধীনতা দাবি করুক এমনটা চান না তিনি। ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান কৌশলে।

প্রায় এক দশক পর ট্রাম্পের বেইজিং সফরে নজর ছিল তাইওয়ানের। কাগুজে বিবৃতির বদলে ট্রাম্প সফরের প্রথম দিনেই ব্যাপক হারে সামরিক মহড়া চালায় তাইপে।

এবার ট্রাম্পের বক্তব্য ও শি-এর সঙ্গে বৈঠক ইস্যুতে মুখ খুলেছেন তাইওয়ানিজ প্রেসিডেন্ট। ফেসবুকের এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সাফ জানিয়েছেন, বল প্রয়োগ নীতি ব্যবহার করে তাইওয়ানের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া যাবে না। স্বপ্রণোদিতভাবে কোনো সংঘাতে জড়াতে না চাইলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না তাইপে।

তবে ওয়াশিংটন-তাইপে অস্ত্র চুক্তি নিয়ে এখনও জল্পনা কাটছে না। তাইওয়ান মনে করে এই অস্ত্র চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের বিরুদ্ধ নয়। আর, বিশ্লেষকদের দাবি, এই অস্ত্র চুক্তির ওপর নির্ভর করছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা। তাইওয়ানকে অস্ত্র বেচলে ওয়াশিংটনকে কাঠগড়ায় তুলবে বেইজিং।

কিন্তু নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে চীন কোনো দেশের মুখাপেক্ষী হতে চায় না তার ইঙ্গিত মিলেছে এশিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে। তাইওয়ানের কৌশলগত অবস্থান আর উন্নত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বাজার দখল করা চীনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আর এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ব্যাপক জোর দিচ্ছে চীন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, তাইওয়ানের মুখোমুখি পূর্ব উপকূলে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে চীন। বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত, উপত্যকা এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের অনুশীলন করছে তারা। আরও জানা যাচ্ছে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ক্ষমতা নেন, সেই তুলনায় চীনের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা এখন দ্বিগুণেরও বেশি।

ব্লুমবার্গের মতে, গেল বছর চীনের প্রধান দুটি রাষ্ট্রীয় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসিক এবং ক্যাস্ক-এর সাথে যুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বিক্রি বেড়েছে ২০%। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল ৪ বছরে চীনের রকেট ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ৫০% বেড়ে প্রায় ৩,৫০০টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গেল ৫ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর পরিধি ব্যাপকহারে বাড়িয়েছে বেইজিং।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শুরু হলে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে তাইওয়ানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং নৌঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানবে চীন। এতে করে কয়েকমাসের জন্য অচলাবস্থায় পড়বে তাইওয়ান। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়তে কাজ করছে শি প্রশাসন।

ইএ