অবিবাহিত মেয়েদের নীরবতাই বিয়েতে সম্মতি— আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন বিধান

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন বিধান চালু করেছে
আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন বিধান চালু করেছে | ছবি: সংগৃহীত
0

বিয়ের ক্ষেত্রে অবিবাহিত মেয়েদের নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করার বিধান চালু করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে ছেলে এবং বিবাহিত নারীদের মৌনতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে না। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও বাল্যবিবাহের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে নতুন পারিবারিক আইন চালু করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের নীতিমালা শীর্ষক ৩১ অনুচ্ছেদের এইডিক্রি অনুমোদন করেছে তালেবান সরকার।

২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারী ও শিশুদের ওপর নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করে আসছে তালেবান সরকার, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনাও রয়েছে।

আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া নিষিদ্ধ, নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, কর্মসংস্থান, ভ্রমণ এবং জনসমাগমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।

এসবের মধ্যেই নতুন পারিবারিক আইন চালু করলো ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধ, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব এবং বাল্যবিবাহের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো রূপরেখা আকারে তুলে ধরা হয়েছে। বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত এখন থেকে এ আইনের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে। সরকারি এ আদেশটি অনুমোদন করেন তালেবান সরকার।

আরও পড়ুন:

এসব বিধানের আওতায় বিচারকরা বিশেষ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির আদেশ দিতে পারবেন। এই আদেশের অন্যতম বিতর্কিত একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো কুমারী মেয়ের মৌনতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কোনো ছেলে বা বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে এ মৌনতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে না।

এছাড়াও নতুন এ আইনে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতি রাখা হয়েছে। এ ধরনের বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বাবা ও দাদাকে। পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত ও মোহরানা দিতে সক্ষম হলে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক করা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে বৈধ বলে বিবেচিত হবে।

এদিকে জীবনসঙ্গী অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে বা মোহরানায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা থাকলে সেই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হবে না। এছাড়া ব্যভিচার, ধর্ম পরিবর্তন, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির মতো অভিযোগের বিরোধ নিষ্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তালেবানের বিচারকদের। এমনকি বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

এসএইচ