ওই কর্মকর্তার মতে, মস্কোর সরকারি আমলা, আঞ্চলিক গভর্নর ও ব্যবসায়ীরা এখন আর পুতিনের কর্মকাণ্ডকে ‘আমাদের’ কাজ বলে মনে করেন না, বরং তারা পুতিনের কাজকে ‘তার’ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করতে শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণি পুতিনের প্রতি তাদের সংহতি না থাকার বিষয়টি সুক্ষ্মভাবে প্রকাশ করছে। যদিও এ মুহূর্তে কোনো বিদ্রোহের সম্ভাবনা নেই, কারণ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও ভয়ের পরিবেশ এখনো প্রবল।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, পুতিন মূলত তার ক্ষমতা ও নিজের তৈরি করা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের পাঁচ বছরে এসে সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো পুতিনহীন এক রাশিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও প্রাণহানির পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর বৃদ্ধি, নড়বড়ে অবকাঠামো এবং কঠোর সেন্সরশিপে রাশিয়ার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে অনেক কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার পথে, যা আর্থিক সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্য দিকে রুশ অভিজাতদের একটি বড় অংশ পুতিনের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা এখন আর বিদেশে থাকতে পারছেন না এবং পশ্চিমা আইনের সুরক্ষা হারিয়েছেন। গত তিন বছরে ক্রেমলিন বেসরকারি ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে। এসব সম্পদ হয় জাতীয়করণ করা হয়েছে, নয়তো পুতিনের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া হয়েছে।
ওই সাবেক কর্মকর্তা বলেন, অভিজাতরা হঠাৎ গণতন্ত্র বা আইনের শাসনের অনুরাগী হয়ে ওঠেননি। তবে তারা এমন কিছু প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম চান যা ন্যায়সংগতভাবে বিরোধ মীমাংসা করতে পারবে। বর্তমানে রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মতো সংস্থাগুলোকে আগের মতো নিজের সুবিধায় ব্যবহার করতে পারছে না। সব মিলিয়ে পুতিনের একরোখা নীতির ফলে রাশিয়ার ভেতরে ও বাইরে এক গভীর পরিচয় সংকট তৈরি হয়েছে।





