প্রসিকিউটরদের দাবি, আল-সাদি ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কাতাইব হিজবুল্লাহ’র একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এক বিবৃতিতে বলেন, আল-সাদি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২০টি হামলা ও হামলার চেষ্টার সমন্বয় বা সহায়তা করেছেন। এর মধ্যে মার্কিন মাটিতে হত্যার ষড়যন্ত্রও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতাইব হিজবুল্লাহ মূলত ইরানের ‘রেভল্যুশনারি’ গার্ডের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপর মার্কিন নজরদারি বৃদ্ধির মধ্যেই এই গ্রেপ্তারের খবর এল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-সাদিকে দেশের বাইরে থেকে হেফাজতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে তুরস্ক থেকে আটক করে মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আল-সাদি মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর নির্দেশ ও উৎসাহ দিতেন। এর মধ্যে আমেরিকান এবং ইহুদি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালতের নথিতে আল-সাদি ও তাঁর সহযোগীদের বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বিদেশে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার মতো ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া এবং অ্যারিজোনায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আল-সাদির আইনজীবী আন্দ্রে ডাল্যাক মামলার বিস্তারিত নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে সতর্ক করেছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা তার আটক থাকার পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমাদের জানা মতে তাকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে, যা নিষ্ঠুর ও অপ্রয়োজনীয়।’





