আমি কাউকে স্বাধীনতার পথে যেতে দেখতে চাই না—তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং | ছবি: সংগ্রহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে চীন থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে সতর্ক করেছেন। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে গতকাল (শুক্রবার, ১৫ মে) ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে স্বাধীনতার পথে যেতে দেখতে চাই না।’ বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আগেই বলেছিলেন, তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই; কারণ দ্বীপটি নিজেকে ইতিমধ্যে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এক চীন নীতিকে মেনে চলতে হয়।

ট্রাম্প আগেও বলেছিলেন, স্বশাসিত এই দ্বীপ নিয়ে তিনি ‘কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি’। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও উড়িয়ে দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় দিতে বাধ্য থাকলেও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে।

ফ্লাইটে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প জানান, তিনি এবং শি জিনপিং তাইওয়ান নিয়ে ‘অনেক’ কথা বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটি রক্ষায় এগিয়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, শি জিনপিং বিষয়টি নিয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে এবং স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে শি জিনপিং বৈঠকে বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্ন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটি ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশ সংঘাতে জড়াতে পারে।’

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করতে বলা হচ্ছে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক; চীনও শান্ত হোক।’ এর মধ্যেই গত বছর শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণা করে, যাতে উন্নত রকেট লঞ্চার ও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। বেইজিং তখন সেটির নিন্দা করে।

তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি শনিবার বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের সঠিক অর্থ তাইওয়ানকে স্পষ্ট করতে হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি একটি নিশ্চিত বিষয়। তাঁর মতে, তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি ভিত্তি।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাইয়ের দপ্তরের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ানের প্রতি ‘নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি’র অংশ এবং তা আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে একটি যৌথ প্রতিরোধ। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং জানান, তাঁর দল শীর্ষ বৈঠকটি নজরে রেখেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যাতে তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকে। তিনি বলেন, তাইওয়ান সব সময়ই এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষক, আর চীনের ‘আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা’ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এএম