এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ইউএনওসিএইচএ) বাংলাদেশের শিশুদের জীবন বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস প্রদান করে।
ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের মধ্যে নতুন করে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। তবে আলোচনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সংকটের চিত্র তুলে ধরা হলে পরিস্থিতিটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এর ফলে ওচা’র সংস্কার ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তার মোট পরিমাণ বর্তমানে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ বিশাল তহবিল বিশ্বের যে ২১টি দেশে ব্যয় করা হবে, সেই তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম।
ব্রিফিংয়ে এখন টেলিভিশনের যুক্তরাষ্ট্র করেসপনডেন্ট আব্দুল আহাদ প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৬৩ জন শিশুর মৃত্যু এবং ৫৩ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছে ৮ জন শিশু। এই জীবন-মরণ সংকটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘের এই নতুন তহবিল থেকে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও টিকা সহায়তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে কি?’
আরও পড়ুন:
এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র অফিশিয়াল জেরেমি পি লুইন বলেন, ‘আপনি যে পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন তা সত্যিই উদ্বেগের। আমরা ওচা-র জন্য যে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন তহবিলের ঘোষণা দিয়েছি, তাতে বাংলাদেশের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বা ট্রাঞ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমাদের এই সহায়তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। ওচা টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা নিশ্চিত করব যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট দ্রুত পৌঁছানো যায়। আমরা এই প্রক্রিয়ায় চরম স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
একই প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, ‘আপনি যে মৃত্যু এবং আক্রান্তের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আমরা পরিস্থিতিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি স্থানীয় প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞরা এই হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘লাইফ-সেভিং’ বা জীবন রক্ষাকারী জরুরি ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেন, তবে এটি অবশ্যই আমাদের বর্তমান বৈশ্বিক বরাদ্দের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। আমরা চাই এই সহায়তা সরাসরি সেই সব শিশুদের কাছে পৌঁছাক যাদের চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এছাড়া আমরা একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ডের ব্যবস্থা করছি যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে দেখা যায় যে এই অর্থ ঠিক কোথায় ব্যয় হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকার পাওয়া ২১টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে বার্মা (মিয়ানমার), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ, কলম্বিয়া, কঙ্গো, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, কেনিয়া, লেবানন, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, উগান্ডা, ইউক্রেন এবং ভেনিজুয়েলা।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান রিসেট’ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির মাধ্যমে গত চার মাসে বিশ্বের প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ মানুষের কাছে রেকর্ড সময়ে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এ নতুন মডেলে ৯২ শতাংশ অর্থ সরাসরি তীব্র সংকটে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ওচা এখন গড়ে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে তহবিল ছাড় করছে, যা যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সরাসরি আক্রান্তদের কাছে সেবা পৌঁছানো এবং স্থানীয় সংস্থাগুলোকে ১৩ শতাংশ সরাসরি বরাদ্দ দিয়ে শক্তিশালী করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
নিউ ইয়র্কের এ ব্রিফিংয়ে দেয়া বিশ্বনেতাদের এ আশ্বাস বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।




