প্রধানমন্ত্রীত্ব বাঁচানোর লড়াইয়ে স্টারমার: পাঁচ মন্ত্রী ও ৯০ লেবার এমপির পদত্যাগ

কিয়ার স্টারমার
কিয়ার স্টারমার |
0

পাঁচ ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ আর অন্তত ৯০ লেবার এমপির পদত্যাগের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রীত্ব বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কিয়ার স্টারমার। যেকোনো সময় ডাউনিং স্ট্রিট থেকে আসতে পারে বড় কোনো খবর। স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য সুপরিচিত যুক্তরাজ্যে ঠিক কী কারণে বারবার মেয়াদ শেষের আগেই প্রধানমন্ত্রী বদলাচ্ছে, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

গেল ১৫ বছরে যুক্তরাজ্যে ৬ জন প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন। এরমধ্যে মাত্র ছয় বছরে চারজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেই আবার সরে গেলেন। তাদের কেউ পদত্যাগে বাধ্য হন, কেউ নির্বাচনে পরাজিত হন, কেউ দলের আভ্যন্তরীণ লড়াই থেকেই ছিটকে যান। প্রধানমন্ত্রী বদলের এসব ঘটনা যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অথচ মার্গারেট থ্যাচার বা টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা একসময় ব্রিটেনের রাজনীতিকে বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টির নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্রেক্সিট ইস্যু, ভুল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, জনরোষসহ বিভিন্ন ইস্যু যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী বদলের পেছনের কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এসব কারণেই দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা আসেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে এই অস্থিরতার শুরু ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ইস্যুতে। সেসময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য গণভোটের ডাক দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। রায়ে জনগণ ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। যেখানে খোদ ক্যামেরনই ছিলেন এর বিরুদ্ধে। এর পরই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন ডেভিড ক্যামেরন।

আরও পড়ুন:

ব্রিটেন ইইউ ছাড়ার পর ব্রেক্সিট ভোটের রূপকার বরিস জনসনসহ অন্য নেতাদের কারও যুক্তরাজ্যের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা না থাকায় ততদিনে দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা চরমে ওঠে। এরপরের প্রধানমন্ত্রী হন থেরেসা মে। তিন তিনবার ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৭ সালে পদত্যাগ করেন থেরেসা।

এরপর কনজারভেটিভ পার্টির বরিস জনসনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পায় ব্রিটেন। ২০১৯ সালে ক্ষমতায় বসে পরের বছরেই তিনি ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত করেন। এরপর করোনা মহামারিতে দুই লাখেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর ফলে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বরিস জনসন।

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পাউন্ডের পতনসহ নানানরকম অর্থনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে কনজারভেটিভ পার্টির পরাজয়ে ঋষি সুনাকের পতন হয়। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে তীব্র জনরোষের মুখে মাত্র এক বছর ৮ মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ করেন তিনি।

ইএ