বিদ্যুৎ ঘাটতিসহ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবার ৬৫ শতাংশ এলাকা গত মঙ্গলবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। কিউবা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করলেও মার্কো রুবিও একে কিউবার ‘ভেঙে পড়া ও অকার্যকর’ ব্যবস্থার ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এই শাসকেরা ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত কিউবার ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব বলে আমি মনে করি না।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরের পথে রুবিও এসব কথা বলেন। কিউবাকে ১০ কোটি ডলার সহায়তার প্রস্তাব গত সপ্তাহে ভ্যাটিকানে আলোচনার সময় রুবিও প্রথম উত্থাপন করেন। তবে কিউবা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি দাবি করলেও হাভানা তা অস্বীকার করেছে।
গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কিউবার ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ শাসকগোষ্ঠীর ব্যর্থতার কারণে দেশটির মানুষ চরম কষ্টে আছে। মার্কিন এই সহায়তার মধ্যে সরাসরি মানবিক সাহায্য এবং ‘দ্রুত ও অবাধ’ ইন্টারনেট সংযোগের জন্য অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে কিউবা সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে সে জন্য জনগণের কাছে তাদেরই জবাবদিহি করতে হবে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে কিউবার ৯৬ লাখ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। গত বুধবার রাজধানী হাভানার উপকণ্ঠে সান মিগুয়েল দেল পাদ্রোনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আলো জ্বালো’ বলে স্লোগান দেন।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘এই পরিস্থিতির একটিই কারণ: যুক্তরাষ্ট্রের জেনোসাইডাল জ্বালানি অবরোধ।’ জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকে কিউবা তাদের জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকই হারিয়েছে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছাতে পেরেছে।
মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ একে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি কোনো অনুদান নাকি স্বাধীনতা খর্ব করার কোনো ‘নোংরা চুক্তি’? জ্বালানি অবরোধ তুলে দেয়াই সমস্যার সহজ সমাধান বলে মনে করেন তিনি।





