১০ দিনের রুদ্ধশ্বাস টানাপোড়েন শেষে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভিডি সতীশন

ভিডি সতীশন
ভিডি সতীশন | ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া
0

দশ দিনের অনিশ্চয়তা, দলের ভেতরে তীব্র লবিং এবং জোটসঙ্গীদের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে অবশেষে কংগ্রেস আজ (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) ভিডি সতীশনকে কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছে। নিউ দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এআইসিসির কেরালা দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপা দাসমুনশি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৪ মে কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ঐতিহাসিক বিজয় পায়। ১৪০ আসনের বিধানসভায় জোটটি ১০২টি আসন জিতে দশ বছরের সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের শাসনের অবসান ঘটায়। কংগ্রেস একাই পায় ৬৩টি আসন। কিন্তু এই বিশাল জয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে দলের ভেতর শুরু হয় টানাটানি।

তিনটি শক্তিশালী শিবির দ্রুত সামনে আসে। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচনি প্রচারণায় নেতৃত্ব দেয়া সতীশন দাবি করেন, সরকারের নেতৃত্বের অধিকার তারই প্রাপ্য। কেন্দ্রীয় সম্পাদক কেসি ভেনুগোপালের সমর্থকরা দাবি করেন, জোট পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাইয়ে তার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড়। আর অভিজ্ঞ নেতা রমেশ চেন্নিথালা বয়োজ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেকে সেরা প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন।

দ্রুতই এই প্রতিযোগিতা রাস্তায় নেমে আসে। কেরালার বিভিন্ন জেলায় তিন নেতার সমর্থকদের মিছিল, ফ্লেক্স ব্যানার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়। ভেনুগোপালের বিরুদ্ধে পোস্টার, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সতর্ক করে বার্তা—এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি একটি অস্বস্তিকর রূপ নেয়।

বিজেপি এবং বাম দলগুলো এই বিলম্বকে কংগ্রেসের ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করে তুমুল সমালোচনা করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কটাক্ষ করেন। জবাবে কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালা মনে করিয়ে দেন যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করতে বিজেপির নিজেরই ৫০ দিন লেগেছিল।

সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে সতীশনের নামে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভেনুগোপাল এবং চেন্নিথালা উভয়েই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সতীশন ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘দল ও মানুষের আস্থার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এটি এক নতুন কেরালার সূচনা।’

এএম