এক দশক পর চীন সফরে ট্রাম্প; আলোচনায় থাকবে চলমান বৈশ্বিক সংঘাত

২০১৭ সালে চীন সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প
২০১৭ সালে চীন সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রায় এক দশক পর চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ছয় মাসেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং। তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে তাইওয়ান ইস্যু, বিরল খনিজ ও বাণিজ্য চুক্তিসহ চলমান বৈশ্বিক সংঘাত। তবে ফলপ্রসূ আলোচনার বিষয়ে সন্দিহান চীনের বাসিন্দারা।

২০১৭ সালের পর প্রথমবার চীন সফরে ট্রাম্প। তিনদিনের সফরে তার সঙ্গী অ্যাপল কোম্পানির সিইও টিম কুক, টেসলা প্রধান ইলন মাস্কসহ অন্তত ১৭ জন শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী। সফর ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের ঐতিহাসিক সুযোগ দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ ৬ মাস পর বৃহস্পতিবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিরল খনিজ, তাইওয়ান ইস্যুর মতো জটিল ও বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, চীনকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি।

প্রভাবশালী এই দু'নেতার বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ইরান যুদ্ধ। মিত্র দেশ চীন ইরানের জ্বালানি তেলের বড় ক্রেতা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি- হরমুজ সচলে চীনের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছে তারা। যদিও এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং। বিশেষজ্ঞদের ধারণা- যুদ্ধ অবসানে চুক্তিতে আসতে তেহরানকে রাজি করাতে চীনকে আহ্বান জানাতে পারেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। হরমুজ অবরোধের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানি তেলের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে চীন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। শি জিনপিং খুব ভালো বন্ধু। এই সফরে বেশ ভালো কিছু ঘটতে চলেছে।’

যুদ্ধ, বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় টালমাটাল বিশ্ব। আর এমন পরিস্থিতিতে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক করতে যাচ্ছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের সফরের মূল লক্ষ্য চীনের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি করা। গেলবছর ট্রাম্পের শুল্কারোপে সৃষ্ট বাণিজ্য যুদ্ধ নিরসনে বাণিজ্য বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

বিরল খনিজ রপ্তানির সীমা আরও বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানাবে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের অত্যাবশ্যকীয় এই উপাদানগুলোর সীমিত চালানে হুমকির মুখে প্রযুক্তিখাত। একবছরে বিরল খনিজ রপ্তানি প্রায় অর্ধেক সীমিত করেছে চীন। জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি।

আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে- তাও উঠে আসবে আলোচনায়। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্রের দাবি, তাইওয়ান চীনেরই অংশ এবং কখনই আলাদা দেশ হবে না। এ ইস্যুতে চীনের অবস্থান স্পষ্ট।

তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের চীনা মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, ‘তাইওয়ান ইস্যু চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই তাইওয়ান অঞ্চলের সঙ্গে অন্য দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সেখানে অস্ত্র বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করে চীন। এ ব্যাপারে চীনের অবস্থান সুসংগত ও সুস্পষ্ট।’

ট্রাম্পের সফর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে চীন। তবে দুই দেশের বাণিজ্যচুক্তি ও সম্পর্কোন্নয়নে ফলপ্রসূ আলোচনার বিষয়ে সন্দিহান চীনা নাগরিকরা। বেইজিংয়ের কিছু বাসিন্দাদের মতে- ট্রাম্প বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি নন, তিনি ঝামেলা পাকাতেই ভালোবাসেন।

চীনা নাগরিকদের একজন বলেন, ‘চীন সফরে ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছানো। সত্যি বলতে, মার্কিন অর্থনীতির পতন ঠেকাতে চীনের দ্বারস্থ হচ্ছেন ট্রাম্প।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘ট্রাম্পের ওপর বিশ্বাস নেই। তিনি এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধ। ট্রাম্প সবসময় ঝামেলা পাকাতেই পছন্দ করে।’

বিশ্লেষকদের মতে, দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে তা গোটা বিশ্বের জন্যই বড় স্বস্তির খবর হবে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তবে এই সময়ে বেইজিং তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এফএস